উত্তর ২৪ পরগণা, পিউ নন্দী: এখন ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন ফটো পোস্ট করতে ব্যস্ত তরুণ প্রজন্ম। তা যদি হয় সুন্দর মনোরম পরিবেশে তাহলে তো কোন কথাই নেই।
বর্ষার মেঘলা আকাশ, শান্ত জলের বিস্তার আর তাতে ভাসমান রঙিন নৌকা,সোশ্যাল মিডিয়ার রিল আর প্রি ওয়েডিং-এর সৌজন্যে এখন ভ্রমণপিপাসুদের মুখে মুখে ফিরছে একটাই নাম, ‘বর্তির বিল’। তবে এসব মিলবে না বিনামূল্যে তার জন্য দিতে হবে টাকা ,চাহিদা বাড়তেই বেড়েছে ফি।
উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত ও ব্যারাকপুরের মধ্যবর্তী নীলগঞ্জ বাজার সংলগ্ন বারবেড়িয়া গ্রামের এই জলাভূমি এখন শহরবাসীর অন্যতম পছন্দের উইকেন্ড ডেস্টিনেশন। কলকাতা থেকে দূরত্ব মেরেকেটে ৪০-৪৫ কিলোমিটার হলেও, বিকেলের অবসর যাপন থেকে শুরু করে ড্রোন ক্যামেরায় প্রি-ওয়েডিং ফটোশুট,সব মিলিয়ে প্রতিদিন পর্যটকদের ঢল নামছে এই চত্বরে।
বর্তির বিলের মূল আকর্ষণ এর নির্মল প্রাকৃতিক পরিবেশ। রাস্তার দুধারে দাঁড়িয়ে থাকা পাটকাঠির সারি আর জলে ভাসমান ২৫-৩০টি রঙিন নৌকো মিলে এলাকাটিকে দিয়েছে এক অনাবিল গ্রাম্য রূপ। বিশেষ করে বর্ষার মরশুমে এই সৌন্দর্য কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন বহু মানুষ বাইক কিংবা গাড়ি নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন। কেউ বিলের বুকে নৌকাবিহারের আনন্দ নিচ্ছেন, কেউ আবার পাড়ের ছোট ছোট ক্যাফেতে বসে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে দশ জোড়া হবু দম্পতি এখানে আসছেন ফটোশুটের জন্য। তবে অতিরিক্ত পর্যটকের আনাগোনায় তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যাও।
যেখানে-সেখানে এলোমেলোভাবে বাইক ও গাড়ি পার্কিং করায় প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠছিল। সেই বিশৃঙ্খলা রুখতে এবার তৎপর হয়েছে প্রশাসন। আমডাঙা বিডিও অফিসের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য একাধিক নির্দেশিকা জারির পাশাপাশি নির্দিষ্ট পার্কিং ফি চালু করা হয়েছে।
প্রশাসনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিল চত্বরে গাড়ি রাখলে এবার থেকে ঘণ্টা হিসেবে ফি দিতে হবে। বাইক ও স্কুটারের ক্ষেত্রে প্রতি ঘণ্টায় ভাড়া ১০ টাকা, টোটো বা অটোর জন্য ২০ টাকা এবং ছোট ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ধার্য হয়েছে ৩০ টাকা। এছাড়া বড় গাড়ির ক্ষেত্রে ঘণ্টায় ৫০ টাকা এবং বাসের ক্ষেত্রে ১০০ টাকা পার্কিং ফি নেওয়া হচ্ছে। ফলে আগে যেখানে শুধু নৌকাবিহারের খরচ হতো, এখন থেকে সেখানে যোগ হচ্ছে গাড়ি রাখার খরচও।
সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে বর্তির বিল চত্বরে গড়ে ওঠা ছোট ছোট দোকান ও ক্যাফে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপার্জনের নতুন দিশা দেখিয়েছে। এবার পার্কিং ফি বাবদ সরকারি কোষাগারেও রাজস্ব জমা পড়বে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, প্রশাসনের এই নজরদারি ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার ফলে বর্তির বিল তার নিজস্ব রূপ ধরে রেখে উত্তর ২৪ পরগনার মানচিত্রে একটি জনপ্রিয় ও স্থায়ী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জায়গা করে নেবে।