কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কাগজপত্রের স্তুপে চাপা পড়ে থাকা একটি পুরনো হিসাব। বহু বছর আগে খোলা একটি অ্যাকাউন্ট। তারপর আচমকাই সেই অ্যাকাউন্টের লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন। এতদিন পর সেই প্রশ্নই যেন নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে একাধিক অস্বস্তিকর তথ্য। আর তার উত্তর খুঁজতে গিয়ে এবার মুখোমুখি তৃণমূলের দুই চিকিৎসক নেতা সুদীপ্ত রায় এবং শান্তনু সেন।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বা আইএমএ-র জার্নাল 'জিমা'র একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। সূত্রে খবর, ২০১৫ সালের জুনে আইএমএর PAN ব্যবহার করে ওই অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। অভিযোগ, বিষয়টি আইএমএ-র দিল্লির সদর দফতরকে জানানো হয়নি। সেই সময় জিমার সম্পাদক ছিলেন শান্তনু সেন। এবং অ্যাকাউন্টের সাইনিং অথরিটি ছিলেন সান্তনু এবং উজ্জ্বল সেনগুপ্ত।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই টাকার মধ্যে প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা নগদে তোলার বিষয়টিও তদন্তের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ২০২০ সালে দুটি চেক সামনে আসার পর অ্যাকাউন্টের অস্তিত্ব সামনে আসে বলে মনে করা হয়েছে।
এরই মধ্যে আরও একটি লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১৭ লক্ষ টাকার একটি চেক 'দিশা মেডিহেল্প' নামে একটি সংস্থার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য হিসেবে, চেকের সঙ্গে থাকা মোবাইল নম্বরটি শান্তনু সেনের সঙ্গে যুক্ত এবং সংস্থাটির কার্যালয়ও তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে দেখা যায়। এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুদীপ্ত রায় প্রশ্ন তুলেছেন, আইএমএ-র তদন্তে বিষয়টি উঠে আসার পরেও কেন কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
তাঁর শিবিরের প্রশ্ন, অ্যাকাউন্টে জমা পড়া ও খরচ হওয়া টাকার সম্পূর্ণ হিসাব কোথায়। অন্যদিকে, এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শান্তনু সেন। তাঁর দাবি, জিমার বিভিন্ন সম্মেলন ও সংগঠনের কাজেই ওই অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। তাঁর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, অবশিষ্ট ২১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৪৯ টাকা জিমার বাড়ি তৈরীর তহবিলে জমা দেওয়ার পর অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি সম্প্রতি' ভুয়ো চিকিৎসক' ইস্যুতে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সেই ঘটনায় সুদীপ্ত রায় সহ কাউন্সিলরের কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জমা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। শান্তনুর বক্তব্য, সেই বিতর্কের মধ্যেই পুরনো আইএমএ অ্যাডকাউন্টের প্রসঙ্গ ফের সামনে আনা হচ্ছে। ফলে, পুরনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন, তদন্ত রিপোর্ট এবং সাম্প্রতিক মেডিক্যাল কাউন্সিল বিতর্ক, এই সব মিলিয়ে ফের তীব্র হয়েছে দুই চিকিৎসক নেতার প্রকাশ্য উত্তেজনা।