প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গের একটি বিতর্কিত ম্যুরাল মুছে ফেলাকে কেন্দ্র করে অসমে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে বিতর্ক উসকে দিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এটি অপসারণের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং যাঁরা এই কাজটি করেছেন, তাঁরা প্রকৃত অসমিয়া এবং জুবিনেরই অনুরাগী।
সম্প্রতি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির অসম সফরের প্রস্তুতি হিসেবে গণেশশুড়ি ফ্লাইওভারের সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়। সেই সময়ই জুবিন গর্গের একটি ম্যুরাল মুছে ফেলা নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, থানার জবানবন্দি অনুযায়ী ওই কাজের সঙ্গে যুক্ত চিত্রশিল্পী ও ঠিকাদার সকলেই অসমিয়া। ছবিটি দেখতে জুবিনের মতো না হওয়ায় ভক্ত হিসেবে তাঁরাই স্বপ্রণোদিত হয়ে সেটি মুছে দেন। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা 'মিয়া' সম্প্রদায়ের হাত নেই।
তবে বিতর্ক দানা বেঁধেছে মুখ্যমন্ত্রীর অন্য একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। প্রয়াত শিল্পীকে কিউবান বিপ্লবী চে গেভারার আদলে উপস্থাপন করার তীব্র বিরোধিতা করেন হিমন্ত। তাঁর সাফ কথা, জুবিনকে এভাবে বিকৃত করে আঁকা যাবে না। যদি ছবি আঁকতেই হয়, তবে তাঁর স্ত্রীর অনুমোদিত ছবিই ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন—
“বিপ্লবী মানসিকতা দেখাতে হলে আলফা (ULFA) প্রতিষ্ঠাতা পরেশ বড়ুয়ার ছবি আঁকা উচিত, যিনি আদর্শের লড়াইয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে পরিবারছাড়া।”
ইতিমধ্যেই অবশ্য বিতর্কিত স্থানটিতে জুবিনের একটি নতুন ছবি আঁকা হয়েছে, যাতে কোনো 'চে গেভারা'র ছায়া নেই এবং এটি নিয়ে কোনো আপত্তিও ওঠেনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় অসমের এই জনপ্রিয় ভূমিপুত্রের। বিদেশের মাটিতে এই আকস্মিক প্রয়াণে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশেই 'সিট' (SIT) গঠিত হয়েছিল। যদিও পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরের আদালত সেই ষড়যন্তের তত্ত্ব খারিজ করে দেয়। মৃত্যুর এক বছর পার হতে না হতেই জুবিনের স্মৃতিবিজড়িত ম্যুরাল নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত অসমের রাজনীতি।




