পুরভোটের আগেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়া আরো একধাপ এগোল। রাজ্যে পূজোর আগেই পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। বুধবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত সংশোধনীয় বিল পেশ করা হয়। সেইসঙ্গে, পুরনো সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের প্রস্তাব ও আনা হয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কলকাতা পুরসভার বর্তমান ১৪৪ টি ওয়ার্ড বেড়ে ২০৯ টি হতে পারে। এবং হাওড়ায় ৫০ টি ওয়ার্ড বাড়িয়ে ৬৮ টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে নাগরিক পরিষেবা আরো উন্নত করার পাশাপাশি জনসংখ্যা ও ভোটারের সংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বিধানসভায় হাওড়ার নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনেন। তার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার মানুষ জল নিকাশি ব্যবস্থা ও রাস্তার সমস্যায় ভুগছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজ আরো সহজ হবে এবং এই সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে।
ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচী বলেন এই পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন ছিল। হাওড়ায় ৫০ টি ওয়ার্ডের মধ্যে এমন অনেক ওয়ার্ড আছে যেখানে কোথাও কোথাও ২০ থেকে ৩০ হাজার ভোটার সংখ্যা। বর্তমানে পুনর্বিন্যাসের ফলে ওয়ার্ড পিছু ১৫ থেকে ১৬ হাজার ভোটার থাকবেন। যার ফলে পরিষেবা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে। ২০১৮ সাল থেকে নির্বাচন হয়নি। প্রশাসক দিয়ে কাজ চলছে। মানুষের স্বার্থে আমি এই বিলকে স্বাগত জানাচ্ছি। পাশাপাশি হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রায় ও আগের সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তবে বিল নিয়ে বিধানসভায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বালি ও হাওড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম বক্তব্য রাখতে গেলে বিরোধীদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ফিরহাদ হাকিম এর বক্তব্য ‘বালিতে উন্নয়নের জন্য হাওড়ার সঙ্গে জোড়ার পরিকল্পনা ছিল।’
অন্যদিকে কলকাতা ২০৯ টি ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের কাজও এগিয়েছে। নতুন মানচিত্র পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সর্বদল বৈঠক করবে বলে জানা গিয়েছে। এবং তারপর মহিলা ও তপশিল সংরক্ষণের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। বিল পাস হলে দুই শহরের পুর পরিষেবা আরো কার্যকর হবে বলে সরকারের দাবি।