কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কালীঘাট মন্দিরে প্রতিদিনই ভক্তদের ঢল নামে। পুজো ,পার্থনা আর আস্থায় জমায়েত থাকে মন্দির প্রাঙ্গণ। কিন্তু, সেই পরিচিত ছবির আড়ালে এবার উঠেছে এমন কিছু প্রশ্ন, যার উত্তর নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। মন্দিরের মূল্যবান সম্পত্তি ও তার নিরাপত্তাকে ঘিরে সামনে এসেছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
সাবর্ণ রায় চৌধুরী ফ্যামিলি কাউন্সিলের সম্পাদক দেবর্ষি রায়চৌধুরী এই বিষয়ে আলিপুরের জেলা জজের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, কালীঘাট মন্দিরের দেবীর মূল্যবান গয়না ও অন্যান্য সম্পদ সংরক্ষণের জন্য স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার একটি শাখায় থাকা লকারের চাবির হদিস দীর্ঘদিন ধরে মিলছে না।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৮০ সাল থেকেই ওই লকারের চাবি নিখোঁজ। অর্থাৎ প্রায় ৪৬ বছর ধরে চাবিটির সন্ধান মিলেনি। ফলে, লকারের ভিতরে থাকা দেবীর গয়না ও সম্পত্তি আদৌ সুরক্ষিত রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবর্ণ পরিবার। সেইসঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে এফআইআর করার দাবিও জানানো হয়েছে।
শুধুমাত্র লকারের চাবি নয়, মন্দির কমিটির পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১৪ সালের পর থেকে মন্দির পরিচালনার কমিটির নির্বাচন হয়নি। অথচ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর হওয়ার কথা। দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় মন্দিরের সম্পত্তি ও আয়-ব্যয়ের হিসাব কতটা স্বচ্ছ ভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি, ভক্তদের কাছ থেকে পূজোর নামে অতিরিক্ত টাকা যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্ত সাপেক্ষ।
কালীঘাট মন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অবশ্য এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল। ২০০৬ সালে কলকাতা হাইকোর্টে প্রনামির টাকা কম জমা পড়া এবং পুজোর স্লট বিক্রির মত অভিযোগ সামনে এসেছিল। এবার নতুন অভিযোগ ওঠায় সেই পুরনো বিতর্ক চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
জেলা জজ পদাধিকারবলে কালীঘাট মন্দির কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ায় তাঁর কাছেই অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি সাবর্ণ পরিবারের। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এমনকি, সমাধান না হলে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
যদিও, মন্দির কমিটির কোষাধক্ষ্য কল্যাণ হালদার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জানিয়েছেন, সম্পাদকের মৃত্যু এবং চেয়ারম্যানের অসুস্থতার কারণে নির্বাচন প্রক্রিয়াতে দেরি হয়েছে। পাশাপাশি, বর্তমানে নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এখন দেখার তদন্তে ঠিক কি তথ্য সামনে আসে।