কালিম্পং, নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ে বদলের কথা বহুবার শোনা গিয়েছে। কিন্তু এবার শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি নয়, কোন পথে সেই পরিবর্তন আসবে, প্রশাসনের নজর কোথায় থাকবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। কালিম্পং টাউনহলে উচ্চ পর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এসে পাহাড়ের উন্নয়ন, দুর্নীতি, বন্যা মোকাবিলা থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা, একাধিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা।
সূত্রে খবর, বৈঠকে GTA এবং বিভিন্ন উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সরব হন বিস্তা। তাঁর দাবি, গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং ১১ টি স্থানীয় জাতিগত উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং এক নির্বাহী আইপিএস অফিসারের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, তদন্তে কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি থেকে শুরু করে, অমৃত প্রকল্প বা স্থানীয় উন্নয়নের অর্থ তছরূপ এবং সরকারি টাকা অপব্যবহারের প্রমাণ মিললে এফআইআর এবং গ্রেফতার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে দুর্যোগ মোকাবিলা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। পাহাড়ে প্রতিকূল আবহাওয়া ও তিস্তার আকস্মিক বন্যার অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকাঠামো আরও মজবুত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। তিস্তার বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনের বিষয়েও কথা বলেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, বর্তমানে ৯০ টি নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা ও কাজ চলছে।
এর পাশাপাশি, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও একাধিক পরিকল্পনার কথা উঠে আসে। কালিংপং এর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ডাক্তার ও নার্সের শূন্যপদ পুরন করে জরুরী চিকিৎসা পরিষেবা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও, যানজট কমাতে বিকল্প মহাসড়ক, সার্কুলার রোড এবং রোপওয়ে প্রকল্পের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। একইসঙ্গে, চা ও সিঙ্কোনা বাগানের পুনরুজ্জীবন এবং দার্জিলিং পার্বত্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকারিতা ফেরানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিস্তার দাবি, তাঁর লক্ষ, পাহাড় উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ প্রতিটি টাকা স্বচ্ছ ভাবে খরচ এবং তার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা। সেইসঙ্গে আগামী কয়েক বছরে এই অঞ্চলে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার বার্তাও দেন তিনি। এই পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর পাহাড়বাসীদের।