কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বিল বোর্ড ভাঙা নিয়ে তৈরি হয়েছিল অশান্তির পরিস্থিতি। এবার সেই ঘটনায় মোট ৩টি পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রুজু হওয়া তিনটে মামলার মধ্যে একটি মামলা করেছেন শেক্সপিয়ার স্মরণী থানার এক অফিসার, একটি মামলা করেছেন পার্কস্ট্রিট থানার এক অফিসার এবং কলকাতা পুরসভার তরফে একটি মামলা করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এফআইআরগুলিতে অভিযুক্ত হিসাবে অভিষেক ছাড়াও নাম রয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীরদের। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া, পার্ক স্ট্রিট থানার আধিকারিকের তরফে দায়ের করা মামলাটি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রুজু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ বেশ কয়েকজন পুরকর্মী এবং পুলিশ আধিকারিক অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে পৌঁছন। অভিযোগ, অবৈধভাবে ওই বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। তবে তা মানতে চাননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তাঁরা পার্টি অফিসের ভিতর প্রবেশ করতে চান। কিন্তু বাধা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈধ নোটিশ দেখাতে না পারার অভিযোগ তুলে সরব হন অভিষেক। ফলে সেখান থেকে চলে যেতে হয় ওই পুর আধিকারিককে। পরে তারা পুলিশ ফোর্স নিয়ে আবার ফিরে আসে। ক্যামাক স্ট্রিটের বাউন্সার ও নিরাপত্তারক্ষীদের সরিয়ে সটান ভিতরে ঢুকে যায় পুলিশ।
তারপরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিষেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তাঁর দফতরের বিলবোর্ড সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, ওই এলাকায় একাধিক বিলবোর্ড রয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র তাঁর দফতরের বোর্ডই সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভা ও পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। অভিষেক বলেন, 'তৃণমূলকে ভয় পেয়েই দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সংবিধানের ঊর্ধ্বে কেউ নন এবং এই ঘটনার বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হবেন।