অন্ধ্রপ্রদেশ,অঙ্কন দাস: অন্ধ্রপ্রদেশের ওঙ্গোলের সূর্য টাওয়ার্স। সেখানেই ঘটল 'লিফট দুর্ঘটনা।' ওই দুর্ঘটনায় ৫০ বছর বয়সী এক প্রৌঢ়ার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, লিফটের দরজা খোলা থাকা অবস্থাতেই সেটি হঠাৎ নিচে নেমে যায়। এর ফলে তিনি নিজেকে বাঁচানোর সময় একেবারেই পাননি। গত রবিবার ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি ওই ভবনগুলোতে লিফটের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
দুর্ঘটনায় মৃতার নাম ভানিথা। তিনি তাঁর মেয়ে ও নাতির সঙ্গে লিফটে প্রবেশ করেছিলেন। সূত্র মারফত এমনটাই জানা গেছে। মেয়ে ও নাতি লিফট থেকে ঠিকঠাক বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। কিন্তু, ভানিথা যখন বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দরজা খোলা থাকা অবস্থাতেই লিফটটি হঠাৎ করে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়ে ভানিতা তাড়াহুড়ো করে চলন্ত লিফট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এই নিয়ে উঠেছে অভিযোগ।
ভানিথার মেয়ের চিৎকার শুনে সূর্য টাওয়ারের লোকজন সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ভানিথাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন তাঁরা। এরপর চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, তার অবস্থার অবনতি ঘটে এবং অবশেষে তিনি আঘাতের কারণে মারা যান। এই ভয়াবহ ঘটনাতির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ভিডিয়ো 'বিকল লিফটের বিপদ' সম্পর্কে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই প্রসঙ্গে আরও একটি ঘটনার কথা বলতেই হয়। লিফটে তিন দিন আটকে ছিলেন ৩২ বছর বয়সি এক নারী। পরে সেখানেই তিনি মারা যান। তাঁর নাম ওলগা লিওন্টিভা। তিনি পেশায় ডাকঘর কর্মী ছিলেন। উজবেকিস্তানের তাসখন্দে এই ঘটনা ঘটেছিল।চলতি বছরের ২৪শে জুলাই কাজ শেষে তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে নিখোঁজ হিসেবে ঘোষণা করেন।
খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি একটি বহুতল ভবনের ৯ তলায় লিফটে আটকা পড়েছিলেন। সেই সময় লিফটের ভেতরে তিনি চিৎকার করলেও কেউ তা শুনতে পায়নি। একারণেই তাঁকে উদ্ধারের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। তিন দিন পর লিফটের ভেতর থেকে তার মৃতদেহ মেলে। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
আঞ্চলিক ইলেকট্রিসিটি নেটওয়ার্ক জানায়, 'ঘটনার দিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়নি। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ নির্ণয় করতে সময় লাগবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে এ জন্য গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।' এই ঘটনায় ওই ভবনে বসবাসকারীরা জানিয়েছিল, ‘লিফটে ত্রুটির কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।’