নয়াদিল্লি: জন্মদিনে বাবাকে কী উপহার দেওয়া যায়? ফুল, কেক কিংবা কোনও দামি উপহার নয়। মেয়ের উপহার ছিল কয়েক মুহূর্তের এক অমূল্য চমক। বাবা জানতেন, বিমানে উঠবেন। কিন্তু জানতেন না, সেই বিমানের কেবিনে অপেক্ষা করছেন তাঁরই মেয়ে! বিমানসেবিকার পোশাকে মেয়েকে সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রথমে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি। কয়েক সেকেন্ডের বিস্ময়। তার পর পরিচিত মুখটা চিনতে পেরে চোখেমুখে আনন্দ। শেষ পর্যন্ত মেয়েকে জড়িয়ে ধরলেন বাবা। জন্মদিনে বাবা-মেয়ের সেই আবেগঘন মুহূর্তের ভিডিয়োই এখন ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমে।
ঘটনাটি ইন্ডিগোর একটি বিমানের। বিমানসেবিকা শ্বেতা পাণ্ডে নিজের বাবার জন্মদিনটিকে একটু অন্য রকম করে তুলতে চেয়েছিলেন। তাই এমন একটি চমকের পরিকল্পনা করেন, যার কথা বাবাকে আগে থেকে ঘুণাক্ষরেও জানাননি। বাবা যখন যাত্রী হিসাবে বিমানে উঠছেন, তখন তাঁরই সামনে বিমানসেবিকার পোশাকে দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্বেতা। কিন্তু এত কাছ থেকে দেখেও প্রথমে মেয়েকে চিনতে পারেননি বাবা!
ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, বিমানে ওঠার পর বাবার সামনে এগিয়ে আসছেন শ্বেতা। ইউনিফর্ম পরা বিমানসেবিকাকে দেখে প্রথমে স্বাভাবিক ভাবেই তাকিয়ে ছিলেন তিনি। কয়েক মুহূর্ত পর যেন মুখের অভিব্যক্তি বদলে যায়। পরিচিত মুখটি চিনতে পারেন। আর তার পরই আবেগ সামলাতে পারেননি। মেয়েকে জড়িয়ে ধরেন। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর সেই মুহূর্তে বাবা-মেয়ের মধ্যে যেন কথার প্রয়োজনই হয়নি।
শ্বেতা পরে জানিয়েছেন, তাঁর বাবা জানতেন না যে তিনি ওই বিমানের কেবিন ক্রু-র সদস্য। ফলে বাবার কাছে এটি ছিল একই সঙ্গে জন্মদিনের উপহার এবং মেয়েকে তাঁর পেশার পোশাকে প্রথম দেখার মুহূর্ত। মেয়ের কর্মজীবনের সেই সাফল্য নিজের চোখে দেখা, বাবার কাছে চমকের আনন্দের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল গর্বও।
শ্বেতা নিজের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ভিডিয়োটি প্রকাশ করেন। সেখানে বাবাকে বিমানে স্বাগত জানানো থেকে শুরু করে আলিঙ্গনের মুহূর্ত— সবই ধরা পড়েছে। জন্মদিন উপলক্ষে বাবার হাতে একটি কার্ডও তুলে দেন তিনি। ছোট্ট সেই কার্ডে ছিল বাবার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং শুভেচ্ছার কথা।
বাবা-মেয়ের সেই আলিঙ্গনের ছবি এবং ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই আবেগে ভাসে নেটদুনিয়া। কেউ লিখেছেন, ‘‘এর চেয়ে সুন্দর জন্মদিনের উপহার আর কী হতে পারে!’’ কারও মন্তব্য, ‘‘বাবার মুখের অভিব্যক্তিটাই পুরো গল্প বলে দিচ্ছে।’’ কেউ আবার লিখেছেন, সমাজমাধ্যমে এমন কিছু মুহূর্তই বার বার দেখতে ইচ্ছে করে।
আসলে বাবা-মেয়ের সম্পর্কের কিছু মুহূর্তের কোনও দাম হয় না। মেয়ের সাফল্য নিয়ে বাবার গর্ব, আর বাবাকে সেই গর্বের মুহূর্তটি নিজের হাতে উপহার দেওয়ার মেয়ের ইচ্ছে— শ্বেতার চমকের মধ্যে যেন সেই সম্পর্কেরই ছবি ধরা পড়েছে।
জীবনের ব্যস্ততায় হয়তো বাবা-মেয়ের দেখা হয় কম। একই শহরে থেকেও কখনও কাজের চাপে, কখনও দূরত্বে, কখনও সময়ের অভাবে একসঙ্গে বসে কথা বলার সুযোগ হয় না। সেই দূরত্বই কয়েক মুহূর্তের জন্য মুছে দিল একটি বিমানের কেবিন। যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে বাবার সামনে দাঁড়িয়ে মেয়ে। আর মেয়েকে দেখে বাবার চোখেমুখে সেই চেনা আনন্দ।
এই গল্পে তাই বিমানের গন্তব্যটা বড় নয়। বড় হয়ে উঠেছে সেই কয়েক সেকেন্ড— যখন একজন বাবা বুঝতে পারলেন, তাঁর সামনে দাঁড়ানো বিমানসেবিকাটি আসলে তাঁরই মেয়ে।
জন্মদিনে বাবাকে মেয়ে দিলেন না কোনও দামি উপহার। দিলেন নিজেকে— নিজের স্বপ্ন, নিজের সাফল্য আর একটি আচমকা আলিঙ্গনের মুহূর্ত। আকাশপথের সেই ছোট্ট সাক্ষাৎ তাই শেষ পর্যন্ত হয়ে রইল বাবা-মেয়ের ভালবাসার এক বড় গল্প।