শিলিগুড়ি, স্নিগ্ধা চৌধুরী: উত্তরবঙ্গে পৌঁছেই পাহাড়ের সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ডাকলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন তিনি। আগামী ২২ আগস্ট, শনিবার পাহাড়ের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে এলাকার বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
২১ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে ‘৫টি স্তম্ভ: পরিবর্তিত বিচারব্যবস্থা’ শীর্ষক ন্যায় সংহিতা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে পৌঁছনোর পর তাঁকে স্বাগত জানান দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ-সহ এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।
তবে শাহের এই সফর ঘিরে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলের নজর মূলত শনিবারের বৈঠকের দিকে। পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা, প্রশাসনিক কাঠামো এবং উন্নয়ন নিয়ে একাধিক দাবি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চান পাহাড়ের জনপ্রতিনিধিরা।
পাহাড়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান। পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব পাহাড়ের একাংশ। বাম আমলে ডিজিএইচসি এবং পরবর্তী সময়ে তৃণমূল সরকারের আমলে জিটিএ গঠনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। বিজেপি অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের সমস্যার ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে।
এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবি আরও জোরালো করতে চান পাহাড়ের নেতারা। পাশাপাশি জিটিএ বোর্ড গঠন, পাহাড়ের পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন, স্বচ্ছভাবে শিক্ষক নিয়োগ এবং স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের দাবিও বৈঠকে উঠতে পারে।
দার্জিলিংয়ের বিধায়ক নোমান রাই জানিয়েছেন, দ্রুত পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের পাশাপাশি থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলি শুরু করার আবেদন জানানো হবে। জিটিএ, পুরসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচন এবং স্বচ্ছ নিয়োগের বিষয়েও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানানো হবে।
বৈঠকে সাংসদ রাজু বিস্তা, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং ও সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির উপস্থিত থাকার কথা। রাজু বিস্তার দাবি, বিজেপির আমলে পাহাড়ে আগের মতো বিভাজন হবে না এবং স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।
অমিত শাহ সুকনার যে হোটেলে থাকবেন, সেখানেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ফলে শনিবারের বৈঠক ঘিরে পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে এখন থেকেই প্রত্যাশা তুঙ্গে।