শিলিগুড়ি, স্নিগ্ধা চৌধুরী: পাহাড় সমস্যা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের কৌশলগত নিরাপত্তা, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিন দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার রাতেই তাঁর শিলিগুড়িতে পৌঁছনোর কথা। এই সফরে পাহাড়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন তিনি।
ভারত-নেপাল সীমান্তে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে একাধিক সন্দেহভাজন পাক এজেন্ট গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ নজরে রয়েছে দিনহাটা এলাকা। পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চিনের নজরদারি নিয়েও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
২১ আগস্ট শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে একটি বড় আইনি প্রদর্শনীতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে শাহের। দেশের আধুনিক বিচারব্যবস্থা এবং সম্প্রতি কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন। অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে সেনা কর্তাদের সঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে বৈঠক করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে বিএসএফ ও এসএসবির কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন তিনি।
তবে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ২২ আগস্ট। ওই দিন পাহাড়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে শাহের। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন পাহাড়ের নেতারা। বৈঠকে সাংসদ রাজু বিস্তা, পার্বত্য এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতে পারেন।
গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতি বিমল গুরুং, সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি, জিএনএলএফের নেতৃত্ব-সহ পাহাড়ের একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে শাহের বৈঠক ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
একদিকে পাহাড়ে রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা, অন্যদিকে সীমান্ত ও ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা অমিত শাহের উত্তরবঙ্গ সফরে এই দুই বিষয়ই বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে।