শিলিগুড়ি, অঙ্কন দাস: আজ শিলিগুড়িতে কেন্দ্রীয় এসএসবি( SSB)-র কর্মসূচি এবং কাওয়াখালিতে নতুন আইন প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।এই বিশেষ ঘটনাটি অনুষ্ঠিত হলো রানিডাঙায়। সকাল সোয়া ১১টা নাগাদ অমিত শাহ রানিডাঙায় এসএসবি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তারপর এসএসবি জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আলাপচারিতাও করেছেন। প্রসঙ্গত, দুদিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এই কর্মসূচি তথা এসএসবি'র সভায় অমিত শাহ বলেন ' এসএসবি রাজনৈতিক দলমতের ঊর্ধ্বে। এসএসবি'র একটা গৌরবময় ইতিহাস আছে। প্রথমবার এসএসবি'র অনুষ্ঠানে আসতে পেরে ভাল লাগছে।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ সীমা সুরক্ষা নিয়ে বলেন '৫৬০ একর জমির প্রয়োজন ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেননি। হাতে পায়ে ধরে ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম, তবু জমি মেলেনি। শুভেন্দু অধিকারর প্রশংসা করতে চাই। উনি আসার পর সীমান্ত রক্ষায় আমরা যা চেয়েছি, তাই পেয়েছি।'
সীমান্তে সুরক্ষা নিয়ে কথা বলার পর, তিনি শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য ' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে শিলিগুড়িকে পূর্ণ করিডোর করার জমি মেলেনি। আমরা দিল্লি - শিলিগুড়ি করিডোর সংযোগ করতে চলেছি। শিলিগুড়ি করিডোর কে সুরক্ষিত করতে আমার বদ্ধ পরিকর!'
শাহের তিন দিনের বাংলা সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর’। যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত। এই ব্যাপারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। দেশের মূল ভূখণ্ড এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে সংযোগ রক্ষায় এই সরু করিডোরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজ দুপুরে কাওয়াখালিতে নতুন আইনের ওপর আয়োজিত একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসএসবি জওয়ানদের সঙ্গে ‘বড়া-খানা’ বা যৌথ ভোজসভায় অংশ নেবেন। শিলিগুড়িতে এসএসবি-র কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাঁর এই মতবিনিময় ও প্রথাগত যৌথ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
শাহের তিন দিনের বাংলা সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডোর। যা ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত; তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা। দেশের মূল ভূখণ্ড এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে সংযোগ রক্ষায় এই সরু করিডোরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী ২২ আগস্ট সীমান্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনা বিষয়ক একটি বৈঠকেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে। এসএসবি-র কর্মসূচির পাশাপাশি, শুক্রবার শিলিগুড়িতে আরও বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে শাহের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে; এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় এবং ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত প্রদর্শনী।
শিলিগুড়ির কাওয়াখালি ময়দানে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও শাহ যোগ দেবেন। এটি আসলে দেশের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইনের ওপর একটি প্রদর্শনী। এই তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন হলো ১)ভারতীয় ন্যায় সংহিতা,২) ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ৩)ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম। ইন্ডিয়ান পেনাল কোড কোড অফ ক্রিমিনাল প্রসিডিউর এবং ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্ট-এর পরিবর্তে ১ জুলাই ২০২৪ থেকে এই আইনগুলো কার্যকর হয়েছে।
বিকেলে এসসবি কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে নতুন আইনি কাঠামোকে কেন্দ্র করে একটি প্রদর্শনী ও জনসভার আয়োজন রয়েছে। এই কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও উপস্থিত থাকবেন।