নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনারদের আইনি দায়মুক্তি নিয়ে ফের তীব্র বিতর্ক! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিধান নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন আইন প্রত্যাহারের দাবি জানালেন AIMIM প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর সোজাসাপটা প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী বা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হলে নির্বাচন কমিশনারদের জন্য আলাদা আইনি রক্ষাকবচ কেন? ওয়াইসির দাবি, এই ধরনের বিধান নির্বাচন কমিশনের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াইসি জানান, ২০২৩ সালে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিল সংসদে পেশ হওয়ার সময়ই তিনি এবং প্রাক্তন সাংসদ ইমতিয়াজ জলিল এই আইনের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এই আইনের ফলে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। ওয়াইসির দাবি, সেই আশঙ্কার কথাই এখন নতুন করে সামনে আসছে।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমা রাও এবং বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীর প্রসঙ্গ টেনে আনেন ওয়াইসি। তিনি বলেন, জৈন হাওয়ালা মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওকে তলব করা হয়েছিল। আবার বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত মামলায় আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণীও। ওয়াইসির প্রশ্ন, দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রেও যখন আইনি প্রক্রিয়া চলতে পারে, তখন নির্বাচন কমিশনারদের জন্য অবসর গ্রহণের পরেও আইনি সুরক্ষার বিধান রাখা হচ্ছে কেন?
ওয়াইসির নিশানায় মূলত ২০২৩ সালের Chief Election Commissioner and Other Election Commissioners (Appointment, Conditions of Service and Term of Office) Act। এই আইনের ১৬ নম্বর ধারায় সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় করা কাজ বা বলা কথার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট শর্তে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা থেকে সুরক্ষার বিধান রয়েছে। এই আইনি ব্যবস্থার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন AIMIM প্রধান।
তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণেই নতুন আইন প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন তিনি। তবে আইনের এই সুরক্ষা সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; একে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ থেকে সম্পূর্ণ দায়মুক্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, নিরপেক্ষতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলতে থাকা বিতর্কের মধ্যেই ওয়াইসির এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে ওঠা আপত্তির জবাবে কেন্দ্র কী অবস্থান নেয়?
