হাবিবুর রহমান, ঢাকা : ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপুজোর শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পুজোমণ্ডপে চলছে সাজসজ্জার কাজ। আর মৃৎশিল্পীদের কর্মশালায় দিনরাত চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। কোথাও চলছে মাটির কাজ, কোথাও শেষ হয়েছে প্রতিমা নির্মাণ, আবার কোথাও চলছে রং ও অলংকরণের প্রস্তুতি।
এবার বাংলাদেশে মোট ৩৩,৮৫১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৫৯টি মণ্ডপে পুজো উদযাপিত হবে। পুজোকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পুজোকে ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তেমনই শহর ও গ্রামাঞ্চলেও বাড়ছে উৎসবের আমেজ। বাংলাদেশে এ বছর প্রায় ১,৫০০টি মণ্ডপ বেড়েছে। বর্তমান সরকার দুর্গাপুজোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করেছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপুজোর সরকারি ছুটি বাড়িয়ে ৩ দিন করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে বাংলাদেশে এবারের পুজোয় মোট ৫ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শান্তিপূর্ণভাবে পুজো উদযাপনের জন্য জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসন কাজ করছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ সব পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং সেল চালু থাকবে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে বা ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। প্রচলিত ব্যাখ্যায় ঘোটকে আগমনকে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতীক এবং নৌকায় গমনকে জল ও শস্যবৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ বছর শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল পর্ব শুরু হবে ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠী দিয়ে। ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১০ অক্টোবর মহালয়া পালিত হবে।