হাবিবুর রহমান, ঢাকা: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার আগুন, বাস, লেগুনা-অটোরিকশাসহ পরিবহনে নৈরাজ্য, কৃষিখাত-বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন খাতে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি বড়ধরনের প্রভাব পড়েছে। এতে ২০ টাকার জ্বালায় জ্বলছে নিন্ম-মধ্যভিত্ত আয়ের মানুষ। জানা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ ও তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন। মাত্র ২০ টাকার এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু যাতায়াত বা পরিবহনেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বহুমুখী প্রভাব তৈরি করে পুরো বাজার ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
এরইমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহনেও। ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় চাল, ডাল, তেল ও সবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাজারে হু হু করে বেড়ে গেছে। বাস, লেগুনা-অটোরিকশা ভাড়া উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দিনমজুর, পোশাক শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের একটি বড় অংশ যাতায়াত খরচেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। একদিনের ব্যবধানে একেকটি পণ্যের দাম বাড়ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আর এই বাড়তি ২০ টাকার জ্বালায় জ্বলছে নিম্নআয়ের মানুষ।
আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সংগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রতিদিনের খাবার তালিকা। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে আলু, পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচের মতো প্রতিটি নিত্যপণ্যে নতুন করে দাম বেড়েছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে সরবরাহ কম থাকার কারণে দাম বেশি। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট আর তদারকির অভাবেই প্রতি সপ্তাহে হু হু করে বাড়ছে দাম। বিশেষ করে যারা দিন এনে দিন খান, তাদের জন্য এই বাড়তি ২০-৩০ টাকা এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিকশাচালক, দিনমজুর এবং পোশাক শ্রমিকদের মতো স্বল্পআয়ের মানুষরা কাটছাঁট করছেন তাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা থেকে। পুষ্টিকর খাবার তো দূরের কথা, তিন বেলা পেট ভরে ডাল-ভাত খাওয়াই এখন তাদের জন্য এক বড় যুদ্ধ। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং নিম্নআয়ের মানুষদের স্বস্তি দিতে অবিলম্বে সরকারি পর্যায়ে কঠোর বাজার মনিটরিং এবং ওএমএস কার্যক্রম আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সবশেষ সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে ডিজেল- কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের নতুন দাম। লিটারে সব ধরনের তেলের দাম বেড়েছে ২০ টাকা করে। বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩২ থেকে ৩৬ শতাংশ।
ফলে জ্বালানি তেলের ছোঁয়াচে চাপে পড়েছে নিন্মআয়ের মানুষ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে স্বল্পমেয়াদে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। তবে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্য পণ্য ও সেবার দামেও। তৈরি হতে পারে মূল্যস্ফীতির ‘ছোঁয়াচে প্রভাব’। তাদের মতে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন নিম্ন ও স্থির আয়ের মানুষ।
তাই জ্বালানির দাম বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার নজরদারি বাড়ানো, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও সরকারি ব্যয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ জরুরি। কথা হয় অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এর সঙ্গে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি দামে জ্বালানি কিনে দেশে কম দামে বিক্রি করে যাওয়ার মতো সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নেই। আবার দেশের বাজারে জ্বালানির দাম প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম থাকলে চোরাচালান ও কালোবাজারির মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বিপিসিকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতাও সরকারের নেই বলে উল্লেখ করেন এই অর্থনীতিবিদ। ফলে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা ছাড়া সরকারের সামনে খুব বেশি বিকল্প ছিল না। তবে জ্বালানির দাম বাড়ার সুযোগ নিয়ে যৌক্তিকতার চেয়ে বেশি হারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সরকারকে কঠোর নজরদারি করতে হবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর কিছুটা প্রভাব পড়বেই। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব বেশি হতে পারে। কারণ ডিজেল বাস-ট্রাক, সেচ, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়। ফলে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়লে বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
তবে যেখানে দুই টাকা দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা রয়েছে, সেখানে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যেন চার টাকা বা তার বেশি দাম না বাড়ানো হয়, সেদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে বলে জানান জাহিদ হোসেন।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনতে হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে খুব একটা বিকল্প ছিল না।
তবে এর ফলে মূল্যস্ফীতির মধ্যে স্থির ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আগে যেখানে প্রায় চার বিলিয়ন ডলার দিয়ে জ্বালানি তেল কেনা হতো, এখন সেখানে প্রায় আট বিলিয়ন ডলার দিয়ে কিনতে হচ্ছে। স্পট মার্কেটেও জ্বালানি তেলের দাম বেশি। এর সঙ্গে রাজস্ব আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি হলো ব্যারোমিটারের মতো। দাম বাড়লে এর প্রভাব অন্য পণ্যের ওপরও পড়ে। তবে জ্বালানি তেলের দাম যতটা বাড়বে, তার তুলনায় আনুপাতিক হারে বেশি দাম বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে সরকারের নজরদারি থাকতে হবে।
নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মুসলিম চৌধুরী। তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের কারণে যেসব দপ্তরের অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে গেছে, সেখানে প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে জনবল ও কাঠামোর ‘রাইট সাইজিং’ করা যেতে পারে। এতে অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় কমিয়ে কিছু আর্থিক সক্ষমতা তৈরি হবে। এই অর্থ নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সরাসরি অর্থ সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে মেগা প্রকল্পসহ সরকারি ব্যয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ওপর জোর দেন মুসলিম চৌধুরী।
তিনি বলেন, সব উন্নয়ন ব্যয় বন্ধ করার প্রয়োজন নেই বরং কোন প্রকল্প বেশি জরুরি, কোনটিতে ব্যয় কমানো বা পিছিয়ে দেওয়া যায় তা নির্ধারণ করতে হবে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে জিনিসপত্রের দামে এবং বিদ্যমান মূল্যস্ফীতিও আরও বাড়তে পারে। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বেন যাদের আয় কম বা কোনো আয় নেই। যারা আগে থেকেই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় ছিলেন, তাদের কেউ কেউ আরও গভীর সংকটে পড়তে পারেন। তাই তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সময়টিতে তৈরি পোশাক খাত নানা ধরনের চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা, অর্ডার কমে যাওয়া এবং কারখানা বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের পোশাক রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ৩৯ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এর মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২০ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কম।
ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৮ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার, কমেছে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ। একই সময়ে মোট পণ্য রপ্তানিতে পোশাক খাতের অংশ ছিল প্রায় ৮০ দশমিক ৬২ শতাংশ। বছরের শুরুতে জুলাইয়ে পোশাক রপ্তানি ২৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ বাড়লেও পরবর্তী কয়েক মাসে ধারাবাহিক দুর্বলতা দেখা যায়। বিশেষ করে ডিসেম্বর ও মার্চে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। তবে এপ্রিল ও জুনে যথাক্রমে ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ ও ২১ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ায় পুরো বছরের পতন কিছুটা সীমিত হয়। তবে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অবশ্য পোশাক রপ্তানিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
জুলাই-আগস্টে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৭ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি। এ সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ। নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধির মধ্যেই বড় প্রশ্ন—বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলে এই ধারা কতটা ধরে রাখা যাবে।
অপরদিকে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচাবাজারে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য পরিবহনে ট্রাক ও পিকআপের ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে তাদের। ফলে সেই বাড়তি খরচ সমন্বয় করতে গিয়ে বাজারে পণ্যের দাম বাড়াতে হচ্ছে। তবে রাজধানীর খিলক্ষেত খুচরা বাজারে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ থেকে আসা সবজির সরবরাহে পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম বাড়ায় দূর-দূরান্ত থেকে পণ্য আনার খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। খিলক্ষেত বাজারে টাঙ্গাইল থেকে মাছ নিয়ে আসা এক পিকআপচালক জানান, টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় আসতে তার প্রায় ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি লাগে। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচ এখন পরিবহন মালিকদের দিতে হচ্ছে। আর শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে ক্রেতাদের ওপর। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সাধারণত পরিবহনসহ বাড়তি খরচ বাজার থেকেই সমন্বয় করেন।
ফলে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব গিয়ে পড়ে ভোক্তার ওপর। অন্যদিকে, বাড়তি খরচের চাপে বাজারে এসে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলাতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। একই সঙ্গে বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।




