নিউজ ডেস্ক: অজিত আগরকারের উত্তরসূরি কে? ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরে এখন এই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধানের পদে নতুন কাউকে বসাতে চাইলেও এখনও পর্যন্ত মনের মতো প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না বিসিসিআই। পরিস্থিতি এমন যে, প্রায় ১০০টি করে টেস্ট খেলা দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারের কাছেও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরাও সেই দায়িত্ব নিতে রাজি হননি। ফলে নতুন প্রধান নির্বাচক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
আগরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৪ অক্টোবর। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে নির্বাচক কমিটির প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ভারতের প্রাক্তন পেসার। মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকলেও তিনি আর দায়িত্বে থাকতে চাননি। তাঁর সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই বিকল্প খোঁজার কাজ শুরু করে বোর্ড। গত ৬ অক্টোবর নির্বাচক কমিটির একটি শূন্যপদ পূরণের জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করে বোর্ড। আবেদনের শেষ দিন ছিল ১৪ অক্টোবর। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরেও নতুন প্রধান নির্বাচকের নাম নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
এই পরিস্থিতিতে আপাতত অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাচক হিসাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রজ্ঞান ওঝা। নির্বাচক কমিটিতে রয়েছেন শিবসুন্দর দাস, অজয় রাত্রা এবং আরপি সিং। বোর্ডের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে, নতুন কাউকে দ্রুত দায়িত্ব দেওয়া, অথবা উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া পর্যন্ত ওঝাকে রেখে দেওয়া।
প্রথম দিকে আগরকারের বিকল্প হিসাবে পার্থিব পটেলের নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ভারতের প্রাক্তন উইকেটকিপার-ব্যাটারকে এই পদের অন্যতম দাবিদার হিসাবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আবেদন করেননি। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পরে বোর্ডের পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিনিধির পদটি পূরণ করার পাশাপাশি নতুন প্রধান নির্বাচক নিয়োগের বিষয়টিও তাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুধু প্রার্থীর অভাব নয়, বেতন নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে খবর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন পরিচিত প্রাক্তন ক্রিকেটারদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনতে চাইছে বোর্ড। কিন্তু সেই মানের ক্রিকেটারদের রাজি করানো সহজ হচ্ছে না। প্রায় ১০০টি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা থাকা দুই প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁদের নাম অবশ্য জানানো হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচকদের জন্য বরাদ্দ অর্থও বাড়িয়েছে বোর্ড। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে নির্বাচক কমিটির জন্য প্রায় ১৯ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সাম্প্রতিক নিয়োগ এবং কমিটির খরচের হিসাব বিবেচনা করেই এই আর্থিক পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ভারতীয় ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিভিএস লক্ষ্মণের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাদেমি তথা সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের প্রধান লক্ষ্মণ ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারেন বলে জল্পনা।





