স্পোর্টস ডেস্ক: লা লিগায় দাপট, চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও একের পর এক জয়। হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা যেন অপ্রতিরোধ্যের নাম হয়ে উঠেছে। দলের আক্রমণভাগে লামিনে ইয়ামলের দুরন্ত ছন্দ প্রতিপক্ষের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছে। গালাতাসারাইয়ের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলে জয়ের পর এ বার রিয়াল বেতিসের মুখোমুখি হতে চলেছে বার্সেলোনা। তবে এই ম্যাচে প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ সহজ হবে না। কারণ, মরসুমের শুরুতে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা বেতিসও পয়েন্ট তালিকার উপরের দিকে রয়েছে। বার্সেলোনার সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর ইয়ামল। গালাতাসারাইয়ের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে তাঁর পায়ে তৈরি হয়েছিল একাধিক গোলের সুযোগ। দুরন্ত ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে অ্যান্টনি গর্ডনের গোলের পথ তৈরি করে দেন তিনি। ফার্মিন লোপেজের গোলের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। ম্যাচের পরে নিজের একটি দুরন্ত ড্রিবলিং নিয়ে ইয়ামল বলেন, “ওটাকে কী বলব জানি না, প্রায় রাবোনা ড্রিবলিংয়ের মতো ছিল।” তাঁর কাছে ব্যক্তিগত কৃতিত্বের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেই মুভ থেকে দলের গোল পাওয়া।
বার্সেলোনার কোচ ফ্লিকও ইয়ামলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাঁর মতে, ইয়ামলের মতো ফুটবলার দলে থাকা অসাধারণ ব্যাপার। দ্বিতীয়ার্ধে তিনি যেভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন, তা ছিল নজরকাড়া। বার্সেলোনার এই মরসুমের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, দলের আক্রমণভাগ কোনও এক জন ফুটবলারের উপর নির্ভরশীল নয়। রাফিনিয়া না থাকলেও আক্রমণে ধার কমেনি। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের মতো ফুটবলার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন। মাঝমাঠেও গাভি, দানি ওলমোদের মতো খেলোয়াড়রা দলকে ভরসা দিচ্ছেন।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মরসুমের প্রথম ১০টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। এই সময়ে ৪৩টি গোল করেছে তারা। এমন আক্রমণাত্মক ফুটবল ইউরোপের প্রতিপক্ষদের কাছে বড় সতর্কবার্তা। তবে সমালোচকদের একাংশের বক্তব্য, এখনও পর্যন্ত ইউরোপের একেবারে সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে নিজেদের পুরোপুরি প্রমাণ করার সুযোগ পায়নি বার্সেলোনা। সেই কারণেই বেতিসের বিরুদ্ধে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার বেতিসের মাঠে খেলতে নামবে বার্সেলোনা। লালিগার পয়েন্ট তালিকায় বার্সেলোনা শীর্ষে থাকলেও বেতিসও রয়েছে তৃতীয় স্থানে। ইসকো এবং প্রাক্তন বার্সেলোনা উইঙ্গার এজ আবদের মতো ফুটবলারদের নিয়ে বেতিসের আক্রমণভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী। বার্সেলোনার রক্ষণে মাঝেমধ্যে যে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে, তার সুযোগ নিতে চাইবে ঘরের দলটি। বিশেষ করে ইয়ামলরা আক্রমণে উঠে গেলে পাল্টা আক্রমণে বার্সেলোনাকে চাপে ফেলার চেষ্টা করতে পারে বেতিস। এই ম্যাচের পরে বার্সেলোনার সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজি এবং তারপরে লালিগায় রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে এল ক্লাসিকো। ফলে বেতিসের বিরুদ্ধে ম্যাচকে বড় পরীক্ষার আগে নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ হিসাবেও দেখছে বার্সেলোনা।





