স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়াডে ভারতের পদকসংখ্যা কমেছে। সেই ফলাফল নিয়েই এবার জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনগুলির কাছে জবাবদিহি চাইলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মান্ডভিয়া। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, দেশের হয়ে পদক জেতার দায়িত্ব শুধু মীরাবাই চানুর মতো কয়েক জন তারকার কাঁধে ছেড়ে দিলে চলবে না। বিভিন্ন খেলায় আরও বেশি দক্ষ খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই ফেডারেশনগুলিকে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ২০২৬ সালের এশিয়াডে ভারতের পারফরম্যান্স পর্যালোচনার জন্য ক্রীড়া মন্ত্রক ও জাতীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানেই ভারোত্তোলক মীরাবাই চানুর প্রসঙ্গ তুলে মান্ডভিয়া বলেন, ‘আর কত দিন শুধু মীরাবাই চানু আমাদের জন্য পদক জিতবেন? আমাদের আরও ১০ জন মীরাবাই তৈরি করতে হবে।’ তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক সাফল্য পেতে হলে প্রতিটি খেলায় প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি।
আগামী দিনের প্রতিযোগিতাগুলিকে সামনে রেখে প্রস্তুতির উপর জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সের পাশাপাশি ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস ও এশিয়াডের জন্য এখন থেকেই সুপরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে। শুটিং, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, ফেন্সিং এবং সাঁতারের মতো বিভাগে প্রত্যাশিত ফল না আসায় সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থাগুলির কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে। বৈঠকে খেলোয়াড়দের চোটের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়। ভারতীয় অলিম্পিক্স সংস্থার সভাপতি পিটি ঊষা আহত খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতায় পাঠানো এবং এক খেলোয়াড়ের কোচকে সঙ্গে না পাঠানোর প্রসঙ্গ তোলেন। তবে মান্ডভিয়া জানান, বৈঠকের উদ্দেশ্য কোনও একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা নয়। বরং সামগ্রিকভাবে ভারতের ক্রীড়া পারফরম্যান্সের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তার সমাধান খোঁজা।
ক্রীড়ামন্ত্রীর বক্তব্য, অলিম্পিক্সের প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব নেই। ফলে আর্থিক সীমাবদ্ধতার অজুহাত দিয়ে খারাপ ফলের ব্যাখ্যা দেওয়া যাবে না। ফেডারেশনগুলিকে খেলোয়াড় বাছাই, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। আইচি-নাগোয়া এশিয়াডে ভারত ২১টি সোনা-সহ মোট ৮৫টি পদক জিতেছে। আগের হাংঝউ এশিয়াডে ১০৬টি পদক পাওয়ার তুলনায় এই ফল অনেকটাই কম। তাই শুধু পদক নয়, আগামী দিনে দেশের ক্রীড়াব্যবস্থার ভিত কতটা মজবুত হচ্ছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।




