হাবিবুর রহমান, ঢাক : দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। পুরাণ মতে অকালবোধনে নিদ্রিত দেবীকে জাগ্রত করার এই শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ শুক্রবার মহাষষ্ঠীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। প্রচলিত নিয়মে দুর্গাপূজা মূলত মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে উদযাপিত হয়। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে রেকর্ড সংখ্যক দুর্গাপূজা। এবার সারাদেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের চেয়ে ৪৯৬টি বেশি। তবে ঢাকা মহানগরীতে রাস্তার ওপর পূজা আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় মণ্ডপের সংখ্যা ৩টি কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৮টিতে।
এদিকে, বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতির মধ্যে বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি পূজামণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠন দুটি। বৃহস্পতিবার ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানানো হয়। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি এ সভার আয়োজন করে।
সভায় নেতারা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে উদযাপিত হবে বলে তাঁরা প্রত্যাশা করেন। ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের মিলন ঘটবে, এটাই বাঙালির শাশ্বত ঐতিহ্য। তাঁরা এমন একটি সমাজ চান, যেখানে ঈদ, পূজা, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান অসাম্প্রদায়িক পরিবেশে, ভয়ভীতি ও পুলিশি পাহারা ছাড়াই উদযাপন করা যাবে।




