ধর্ষণ, যৌন হেনস্থা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন বাংলার ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েল। আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে খেলা এই ক্রিকেটারকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করে হুগলির মগরা থানার পুলিশ। পরে তাঁকে চুঁচুড়া জেলা আদালতে পেশ করা হয়। অভিষেকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র একাধিক ধারার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬/৭২ ধারাতেও মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও অভিযোগ ওঠার পর থেকেই যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্রিকেটার।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৩ জুন। কর্নাটকের এক তরুণী মেডিক্যাল পড়ুয়া মগরা থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। এমনকি তাঁদের বিয়ের কথাও স্থির হয়েছিল। দু’জনে একসঙ্গে বিদেশেও গিয়েছিলেন বলে অভিযোগকারিণীর দাবি। পরে অভিষেক সম্পর্ক অস্বীকার করলে পুলিশের দ্বারস্থ হন তরুণী। এর আগেও প্রায় দেড় বছর আগে দু’জনের মধ্যে বিবাদ হয়েছিল এবং তা গড়িয়েছিল থানায়। তবে সেই সময় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে মগরা থানার পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সেদিনই হুগলি গ্রামীণ পুলিশের সুপার কুনার ভূষণ সিং মগরা থানায় যান। ডিএসপি ক্রাইম অভিজিৎ সিংহ মহাপাত্রও থানার আইসি-র সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। তদন্তকারীরা অভিষেকের চন্দননগরের বাড়িতে একাধিক বার গেলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এরপর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তরুণী। আদালতের নির্দেশের পরই অভিষেককে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এর আগে মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পুলিশকে আরও সক্রিয় ভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তরুণীর একাধিক ছবি থাকা সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস দ্রুত বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে কোনও ভাবেই তাঁর ছবি ছড়িয়ে না পড়ে। আপাতত পুলিশের তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে অভিযোগের সত্যতা, দুই পক্ষের সম্পর্কের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ই-নথি। আদালতে পরবর্তী শুনানিতে এই মামলায় পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।