নরওয়ে: ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান আইনজ্ঞ নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লে। আন্তর্জাতিক আইনকে শক্তিশালী করা, মানবাধিকার রক্ষা এবং গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাঁর এই প্রাপ্তি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
৮৫ বছর বয়সি নাভি পিল্লে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষার সঙ্গে যুক্ত। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফর রুয়ান্ডার বিচারক এবং পরে সেই ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা বিচারপতি হিসেবেও ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি।
নোবেল কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক আইনের অগ্রগতিতে পিল্লের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক আইন কীভাবে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সাহায্য করতে পারে, শক্তিশালী রাষ্ট্র ও ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পারে এবং অপরাধের শিকার মানুষদের অধিকার রক্ষা করতে পারে, তাঁর কর্মজীবন তারই উদাহরণ।
কেন নাভি পিল্লেকে বেছে নিল নোবেল কমিটি?
মানবাধিকার রক্ষার পাশাপাশি গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ষণ ও যৌন হিংসাকে গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রেক্ষাপটে বিচার করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গণহত্যায় উস্কানি দেওয়া এবং এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার প্রচেষ্টাতেও তাঁর কাজ উল্লেখযোগ্য।
তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল, অপরাধ যত গুরুতরই হোক না কেন, অভিযুক্তদের আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না দেওয়া। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পক্ষেও তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।
তামিল বংশোদ্ভূত, জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকায়
নাভি পিল্লের পরিবারের শিকড় ভারতের তামিল সমাজে। তবে তাঁর জন্ম দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। বর্ণবৈষম্যের সময় দক্ষিণ আফ্রিকায় বেড়ে ওঠা পিল্লে পরবর্তীকালে আইনজীবী ও বিচারপতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিচিতি অর্জন করেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং আইনের সমান প্রয়োগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকারিতা দুর্বল হয়ে পড়া এবং আইনের শাসনের উপরে ক্ষমতার রাজনীতির প্রভাব বাড়ার এই সময়ে পিল্লের কাজ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৬ সালে এই পুরস্কারের ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার রক্ষা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নাভি পিল্লের দীর্ঘ কর্মজীবন ফের মনে করিয়ে দিল, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
