নিউজ ডেস্ক : প্রশাসনের পোশাক গায়ে থাকলেই কি সব প্রশ্নের উর্ধ্বে থাকা যায়? যাদের হাতে আইন মেনে চলার দায়িত্ব, তাঁদের বিরুদ্ধেই যদি ওঠে নিয়ম ভাঙ্গার অভিযোগ, তা হলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়? বিহারের একটি ঘটনায় সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে। একটি নির্দিষ্ট কাজের অনুমতি ঘিরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ, তারপর আচমকা অভিযান এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেফতারি, সব মিলিয়ে ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
বিহারের মধুবনীতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ট্রাফিক ডিএসপি সুজিত কুমার। অভিযোগ, ডাম্প ট্রাক চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে তিনি নিয়মিত টাকা দাবি করছিলেন। ভিজিল্যান্স বিভাগের কাছে এই সংক্রান্ত অভিযোগ পৌঁছনোর পরই শুরু হয় নজরদারি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পরিকল্পনা করে অভিযানের নামে সংশ্লিষ্ট বিভাগের একটি দল।
https://x.com/pra1366/status/2115251889965322618?a=EsQ53rCNFvjaYrGl94Y&s=08
অভিযোগ অনুযায়ী, ডাম্প ট্রাক চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে প্রতি মাসে প্রায় এক লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন ওই পুলিশ আধিকারিক। সেই লেনদেনের সূত্র ধরেই এগোয় তদন্ত। অভিমানের সময় ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার মুহূর্তে সুজিত কুমারকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন ভিজিল্যান্স আধিকারিকেরা বলে জানা গিয়েছে। সরকারি দায়িত্বে থাকা এক আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সামনে আসাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে।
এদিকে, গ্রেফতারের পর সুজিত কুমারের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলে খবর। তবে, ঠিক কি কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন এবং তাঁকে কোথায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ হাসির ইমোজি দিয়ে বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন, কেউ আবার মন্তব্য করেছেন, পুলিশের কাজই তো আইন মেনে চলা নিশ্চিত করা। ফলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে আলোচনা।
তবে, অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। তদন্তর মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সমস্ত দিক সামনে আসা জরুরী। ভিজিল্যান্স বিভাগের তদন্তে শেষ পর্যন্ত কি তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর।




