বীরভূম: খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ বীরভূমে শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জেলায় নতুন শিল্প গড়ে তোলার উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করতে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ বা জমির তথ্যভাণ্ডার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। সম্প্রতি সিউড়িতে জেলা ভূমি দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে এই নির্দেশ দেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য, জমির সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে শিল্প সংস্থাগুলির কাছে বিনিয়োগের উপযুক্ত সুযোগ তুলে ধরা।
মন্ত্রী দীপঙ্কর জানার কথায়, বীরভূম একটি ‘সোনার জেলা’। এখানকার খনিজ সম্পদ এবং শিল্পের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে একাধিক সংস্থাকে বিনিয়োগে আগ্রহী করার চেষ্টা চলছে। সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে কোন এলাকায় কী ধরনের জমি রয়েছে, কোথায় সরকারি জমি পাওয়া যেতে পারে এবং কোন জমিতে শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব, তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
১৯টি ব্লকের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক
সিউড়িতে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক (DLRO) এবং জেলার ১৯টি ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকরা (BLRO)। বৈঠকে জমির বর্তমান অবস্থা, সরকারি জমির ব্যবহার এবং পাট্টা সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে আলোচনা হয়।
গত ১৫ বছরে জেলার কোথায় কত জমি পাট্টা হিসেবে দেওয়া হয়েছে, কার নামে সেই জমি বরাদ্দ হয়েছে এবং প্রকৃত প্রাপক হওয়া সত্ত্বেও কারা এখনও পাট্টা পাননি—তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম-সহ এই তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এই তথ্যভাণ্ডার তৈরির ফলে সরকারি জমির হিসাব আরও স্পষ্ট হবে এবং শিল্পের জন্য উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার কাজ সহজ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিনিয়োগ টানতে জমির তথ্যেই জোর
রাজ্য সরকারের দাবি, গত কয়েক মাসে একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করেছে। আরও কিছু শিল্প সংস্থা রাজ্যে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বীরভূমের জমি ও খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে নতুন শিল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, শিল্প সংস্থাগুলির সঙ্গে রাজ্য সরকারের যোগাযোগ রয়েছে। বীরভূমে একাধিক পরিচিত শিল্প সংস্থাকে নিয়ে আসার উদ্যোগ চলছে। তাই কোন জমি শিল্পের উপযোগী, কোথায় সরকারি জমি রয়েছে এবং কীভাবে সেই জমি কাজে লাগানো সম্ভব, তা নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি।
নতুন শিল্পনীতির দিকেও নজর
রাজ্য সরকারের শিল্প পরিকল্পনায় আগামী দিনের আরও কয়েকটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৪ অক্টোবর হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালসের নতুন প্ল্যান্টের উদ্বোধনের কথা রয়েছে। পাশাপাশি, দুর্গাপুজোর পর নতুন শিল্পনীতি ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বীরভূমে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, কোন শিল্প সংস্থা জেলায় বিনিয়োগ করবে এবং কত কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট ঘোষণা নেই।
জমির সঠিক তথ্য, শিল্পের উপযোগী পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ—এই তিনটির সমন্বয় ঘটাতে পারলে বীরভূমে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এখন দেখার, ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরির নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং তার মাধ্যমে জেলার অর্থনীতিতে কী পরিবর্তন আসে।
