পশ্চিম মেদিনীপুর: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফর ঘিরে ব্যস্ততা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে বীরসিংহ গ্রাম। বিদ্যাসাগরের স্মৃতিবিজড়িত এই ঐতিহাসিক গ্রামে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসাহ। বীরসিংহ ঘাটাল ব্লকের অন্তর্গত এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী গ্রামটিতে প্রায় ৩,৬৭৪ জন মানুষের বসবাস।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর সফরের দিনেই ঘাটালের অন্য ছবি আরও উদ্বেগজনক। টানা বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে ঘাটাল মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন। শিলাবতী ও ঝুমি নদীর জল বাড়ায় ঘাটাল শহর ও আশপাশের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোথাও রাস্তার উপর দিয়ে জল বইছে, কোথাও আবার নৌকাই হয়ে উঠেছে যাতায়াতের অন্যতম ভরসা।
বন্যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ জনজীবনেও। একাধিক রাস্তা ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। জলমগ্ন হয়েছে চাষের জমি, পানীয় জলের পরিকাঠামো এবং বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিস্থিতির কারণে পড়ুয়াদেরও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কোথাও পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছতে হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দুর্গত এলাকার বহু মানুষ অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গা ও ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর ঘাটাল সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের তরফে বন্যা পরিস্থিতির উপর নজরদারি এবং দুর্গতদের কাছে খাবার, পানীয় জল ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের গোড়াতেও রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করে জেলা প্রশাসনগুলির সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এখন মূল নজর বীরসিংহে। একদিকে বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে, অন্যদিকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই জলবন্দি মানুষের দুর্ভোগ দুই ভিন্ন বাস্তবতার মধ্যে দাঁড়িয়ে আজকের সফর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বীরসিংহে কী বার্তা দেন, ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কী নির্দেশ দেন এবং সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন কি না, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দা থেকে প্রশাসনের।