নিউজ ডেস্ক: মাঝ আকাশে তখন কয়েকশো ফুট ওপরে বিমান। যাত্রীরা নিশ্চিন্ত, হয়তো কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন। কিন্তু ককপিটের ভেতরে তখন চলছিল এক চরম রক্তক্ষয়ী ঘটনা।
নিজের সহ-পাইলটের অতর্কিত প্রাণঘাতী হামলা রুখে দিয়ে শত শত যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। সেই ভয়াবহ ঘটনার রেশ কাটিয়ে এবার আশার আলো।
চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা আর নিজের অদম্য মানসিক জোরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে এবার নিজের পায়ে দাঁড়ালেন এই বীর পাইলট।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবু ধাবি থেকে স্থানান্তরিত করে তাঁকে সম্প্রতি দুবাইয়ের একটি আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানেই তিনি গতকাল কারও সাহায্য ছাড়া অন্তত দশ পা হেঁটেছেন। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি বেশ দ্রুত গতিতে হচ্ছে।
কয়েক দিন আগের সেই দিনটির কথা মনে পড়লে এখনও শিউরে উঠতে হয়। ফ্লাইদুবাইয়ের উড়ান চলাকালীন আচমকাই ককপিটের জরুরি কুঠার নিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিতের ওপর চড়াও হন ওমানি কো-পাইলট। বিমানটিকে মাটিতে আছড়ে ফেলার এক ভয়ঙ্কর চক্রান্ত ছিল সেটি। রক্তে ভেসে যায় ককপিটের মেঝে, মাথার খুলি ভেঙে গুরুতর জখম হন স্মিত। বিমানের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সেই চরম যন্ত্রণার মধ্যেও নিজের দায়িত্ব ভোলেননি তিনি। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে সহ-পাইলটের সেই ধ্বংসাত্মক চেষ্টা ভেস্তে দেন।
বিমানটি দ্রুত সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা দেখেন তাঁর মাথায় গুরুতর চোট রয়েছে। তড়িঘড়ি জটিল অস্ত্রোপচার করে মাথার খুলি পুনর্গঠন করতে হয়। প্রাথমিক সংকট কাটার পর তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবু ধাবি এবং পরে দুবাইয়ে নিয়ে আসা হয়।
ক্যাপ্টেন স্মিতের এই অসম সাহসিকতা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। রক্তাক্ত হয়েও যেভাবে তিনি যাত্রীদের জীবনকে নিজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, তা এক কথায় বিরল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে কথা বলে তাঁর এই অটুট সংকল্প ও সাহসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁকে ‘অবিশ্বাস্য রকম সাহসী’ বলে আখ্যা দেন। এমনকি দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মহম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম নিজে হাসপাতালে গিয়ে আহত ক্যাপ্টেনের সঙ্গে দেখা করে তাঁর খোঁজখবর নেন।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ভারতীয় দূতাবাস নিয়মিত তাঁর পরিবার, চিকিৎসক ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে। বিমান দুর্ঘটনা বা হাইজ্যাকের এরকম বহু ঘটনা থাকলেও, নিজে আহত হয়েও এত মানুষের প্রাণ বাঁচানোর ঘটনা সত্যি প্রশংসাযোগ্য।
