গুজরাটে বর্ষার মরশুমে চাঁদিপুরা ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পনসেরিয়া জানিয়েছেন, মোট ১৮৪টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের মধ্যে ৩৫টি ক্ষেত্রে চাঁদিপুরা ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। আরও ১১টি নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে সাতজন আক্রান্ত শিশু বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, ছয়জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে। গান্ধীনগর, সাবরকাঁঠা-হিম্মতনগর, পাটন, রাজকোট এবং ভাবনগরের হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত সব রোগীর বয়স ১৫ বছরের নিচে। তবে সংক্রমণ কোনও নির্দিষ্ট গ্রাম বা জেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গুজরাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে আক্রান্তের খবর আসায় পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর রাখছে স্বাস্থ্য দফতর।
চাঁদিপুরা ভাইরাস মূলত বালুমাছি বা স্যান্ডফ্লাইয়ের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি কীটনাশক ছড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে পশুপালন বেশি হয়, সেই এলাকাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। মাটির বাড়ি ও দেওয়ালের ফাটল বালুমাছির প্রজননের জায়গা হয়ে উঠতে পারে। তাই বাসিন্দাদের এই ধরনের ফাটল বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিশুদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, বমি, খিঁচুনি বা চেতনা পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। সরকারি ও বেসরকারি শিশু হাসপাতালগুলিকেও জরুরি ভিত্তিতে আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটর সহ আইসিইউ পরিষেবার ব্যবস্থা রাখার কথাও বলা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, চাঁদিপুরা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ, একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া-সহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনও টিকা বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। ফলে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা এবং উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার এবং গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কাজে সহযোগিতা করার জন্যও রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।




