হারিয়ে গিয়েছে চটি। সামনে শুধু চটি আর চটি। কোথাও জুতো, কোথাও স্যান্ডেল, কোথাও আবার একেবারে একই রকম দেখতে অসংখ্য জোড়া। সাধারণ চোখে খুঁজতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যেতে পারে। কিন্তু এক যুবক সেই ঝামেলায় গেলেন না। ভরসা করলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর। মোবাইলের ক্যামেরায় তুলে নিলেন কয়েকশো জোড়া জুতোর ছবি। তার পর সেই ছবি পাঠিয়ে দিলেন ChatGPT-কে। আর তাতেই নাকি মিলল হারানো চটি! সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিয়ো নিয়েই এখন হাসি-ঠাট্টায় মেতেছেন নেটাগরিকরা।
ঘটনাটি সামনে এসেছে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা একটি ভিডিয়ো থেকে। শেয়ার করা পোস্ট অনুযায়ী, একটি জায়গায় একসঙ্গে রাখা ছিল হাজারেরও বেশি জোড়া জুতো-চটি। সেই বিশাল ভিড়ের মধ্যেই নিজের একটি চটি হারিয়ে ফেলেছিলেন ওই ব্যক্তি। অনেক খুঁজেও যখন কোনও হদিস মিলছিল না, তখনই মাথায় আসে অভিনব বুদ্ধি—মানুষের চোখের বদলে কাজে লাগানো যাক AI-কে।
মোবাইল বার করে জুতো-চটির স্তূপটির ছবি তোলেন তিনি। তার পর ChatGPT-কে ছবিটি দেখিয়ে জানতে চান, তাঁর হারানো চটি কোথায় রয়েছে। ছবির মধ্যে নির্দিষ্ট জোড়াটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করে AI। কিছুক্ষণের মধ্যেই যুবককে সেই জায়গার দিকে এগিয়ে গিয়ে নিজের হারানো চটি খুঁজতে দেখা যায়। ঘটনাটি সত্যিই ঠিক কী ভাবে ঘটেছিল, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য না থাকলেও ভিডিয়োটিই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে।
‘AI-ও এমন কাজের জন্য তৈরি হয়নি!’
ভিডিয়োটি ইতিমধ্যেই ২০ লক্ষের বেশি বার দেখা হয়েছে। কমেন্টে মজার প্রতিক্রিয়ার বন্যা। কেউ লিখেছেন, ‘‘ChatGPT-কে এ ভাবেও ব্যবহার করা যায়, জানা ছিল না!’’ আবার কারও রসিকতা, ‘‘সবচেয়ে সুন্দর জোড়াটা নিয়ে চলে যান!’’ অন্য এক নেটাগরিকের মন্তব্য—‘‘AI is crying in the corner’’—অর্থাৎ, AI-কে এমন কাজে নামিয়ে দেওয়ায় যেন তারও অবাক হওয়ার জোগাড়। কেউ আবার লিখেছেন, ‘‘আধুনিক সমস্যার জন্য আধুনিক সমাধান চাই।’’
শুধু চটি নয়, বইও খুঁজে দিয়েছে AI!
এই ভিডিয়ো ঘিরে আরও একটি মজার তথ্য সামনে এসেছে। এক মহিলা জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী এক বার বইয়ের মেলায় গিয়ে নির্দিষ্ট একটি বই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তিনি বইয়ের তাকগুলির ছবি তুলে ChatGPT-কে দেখান। AI-র সাহায্যেই নাকি নির্দিষ্ট বইটির অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল। ফলে হারানো চটি খোঁজা থেকে বইয়ের তাক—ছবি দেখে নির্দিষ্ট জিনিস শনাক্ত করার কাজে AI-র ব্যবহার যে ক্রমশ বাড়ছে, এই ঘটনা তারই মজার উদাহরণ।
তবে এই ঘটনা আরও একটি বিষয় সামনে এনে দিয়েছে। এত দিন ChatGPT-কে মূলত লেখা তৈরি, তথ্য খোঁজা, অনুবাদ বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত। এখন ছবি বিশ্লেষণ ও নির্দিষ্ট বস্তু চিহ্নিত করার মতো দৈনন্দিন কাজেও মানুষ তার সাহায্য নিচ্ছেন। প্রযুক্তির ব্যবহার যে শুধু অফিস-কাছারি বা গবেষণাগারে আটকে নেই, হাজার জোড়া জুতোর ভিড়ে হারানো একখানা চটি খোঁজার ঘটনাই যেন তার সবচেয়ে মজার প্রমাণ।