নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পথেই এগোচ্ছে ভারত। গত দেড় বছরে দেশের বিভিন্ন সংস্থা পরীক্ষামূলক স্তর থেকে বেরিয়ে এআই প্রযুক্তির পূর্ণাঙ্গ প্রয়োগ শুরু করেছে। শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, তার বাস্তব সুফলও পেতে শুরু করেছে তারা। এমনই দাবি করলেন ওরাকল ইন্ডিয়ার প্রধান শৈলেন্দ্র কুমার। তাঁর মতে, খরচ, দক্ষ কর্মীর অভাব এবং পরিকাঠামো কিছুটা বাধা তৈরি করলেও ভারতে এআই প্রযুক্তির প্রসারের সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।
লাস ভেগাসে আয়োজিত ওরাকল এআই ওয়ার্ল্ড ২০২৬ অনুষ্ঠানের পাশে পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কুমার বলেন, “প্রায় দেড় বছর আগে আমরা পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বা পাইলট প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছিলাম। এখন আমরা পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন স্তরে এআইয়ের ব্যবহার দেখতে পাচ্ছি। এই প্রয়োগ থেকে বাস্তব সুফলও মিলছে।” তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় সংস্থাগুলি নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে পিছপা নয়। তবে কোনও প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে তার কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চায় তারা। সময় ও খরচ কতটা বাঁচবে, কাজের দক্ষতা কতটা বাড়বে, সেটাই মূলত বিচার করে সংস্থাগুলি।
এআই ব্যবহারের পথে প্রধান বাধা হিসাবে খরচের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন কুমার। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর অভাবও বড় চ্যালেঞ্জ। এই সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ এবং রাজ্য সরকারের সঙ্গে কাজ করছে ওরাকল। শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বা আইটিআই এবং পলিটেকনিকের পড়ুয়াদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। তবে দেশে নতুন নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি হওয়ায় সেই পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার উপরেও জোর দিয়েছেন কুমার। তাঁর কথায়, “এআই নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সুশাসন বা গভর্ন্যান্সই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।” তাঁর মতে, সংস্থাগুলিতে এমন কর্মী থাকা প্রয়োজন, যাঁরা এআইয়ের সিদ্ধান্ত সঠিক কি না এবং প্রযুক্তিটি নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধও আরও স্পষ্ট হবে। প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মকানুনেও পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন তিনি।
ভারতে ওরাকলের ব্যবসা নিয়েও আশাবাদী কুমার। তাঁর দাবি, গত ৩৩ বছর ধরে ভারতে কাজ করছে সংস্থাটি। দেশের ১৫টিরও বেশি শহরে তাদের উপস্থিতি রয়েছে। গত প্রায় ১০ বছর ধরে ভারতে সংস্থার ব্যবসা দুই অঙ্কের হারে বেড়েছে। ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্র ওরাকলের সবচেয়ে বড় ব্যবসার জায়গা। তার পরেই রয়েছে সরকারি ক্ষেত্র। ভারতের চারটি টেলিকম সংস্থাই ওরাকলের পরিষেবা ব্যবহার করে।
আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ভারতে ব্যবসার বৃদ্ধির গতি আরও বাড়ানোই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কুমারের কথায়, “ভারত খুবই সঠিক পথে এগোচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মতো কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে একটি দেশ হিসাবে ভারত যথেষ্ট ভাল জায়গায় রয়েছে।”




