নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদেরা। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা না করার পিছনে চারটি যুক্তি তুলে ধরেছেন তিনি। অন্যদিকে, সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযান ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও।
কেন দেখা করতে রাজি হলেন না প্রধান বিচারপতি?
SIR নিয়ে অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা সম্পর্কে নিজেদের উদ্বেগ জানাতেই প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছিলেন বিরোধী সাংসদেরা। তাঁদের মধ্যে রাহুল গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আবেদন গ্রহণ করেননি বিচারপতি সূর্য কান্ত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি মূলত চারটি বিষয় তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, SIR সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। তাই বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আদালতের বাইরে আলাদা করে আলোচনা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয়ত, সাংবিধানিক কাঠামোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম, অভিযোগগুলি বিবেচনা করা বা সেই ভিত্তিতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা আদালতের প্রশাসনিক এক্তিয়ারের বিষয় নয়।
তৃতীয়ত, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতার উল্লেখ করেছেন তিনি। বিরোধীদের বক্তব্য, অভিযোগ বা দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে চাইলে তাঁরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে পারেন। সেই আবেদন আদালতের নিয়ম মেনে বিবেচিত হবে।
চতুর্থত, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর বার্তা, আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পথ খোলা রয়েছে।
রাহুলের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচি, কী হবে মিছিলের?
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বিরোধী শিবির বিকেল ৪টে থেকে ৫টার মধ্যে সময় চেয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার বেলা দেড়টা নাগাদ কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী নাগরিক সমাজ, ছাত্রছাত্রী এবং যুবসমাজকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
কিন্তু প্রধান বিচারপতি সাক্ষাতের আবেদন খারিজ করার পর বিরোধীরা কর্মসূচি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মিছিল হবে কি না, কিংবা কর্মসূচির ধরনে কোনও পরিবর্তন আসবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের চূড়ান্ত ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ।
দিল্লিতে বন্ধ মেট্রো স্টেশন, নিরাপত্তা জোরদার
বিরোধীদের কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে দিল্লি পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত দিল্লির ছ’টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার কথা রয়েছে।
এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-ও সোমবার পৃথক কর্মসূচির কথা জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের কর্মসূচির বিস্তারিত তখনও স্পষ্ট ছিল না।
SIR বিতর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধীদের আন্দোলন, প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান এবং দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই তিনটি বিষয় ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়ছে। এখন নজর বিরোধী জোটের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং SIR সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আইনি প্রক্রিয়ার দিকে।