কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: জামিন পেলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেসপ্রার্থী মিলন প্রধান। সব মামলায় অন্তর্বতী জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বতী জামিন দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত জামিন মিলনের। আবার ২১ অক্টোবর তাঁকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বতী জামিন দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। ফলে, জেলমুক্ত হয়েই নির্বাচনে লড়তে পারবেন মিলন।
জানা গিয়েছে, খেজুড়ি থানার ২ টি এবং নন্দীগ্রামের থানার ৪ টি মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করল আদালত। ২০ হাজার টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর। মোবাইল নম্বর তদন্তকারী আধিকারিক কে দিতে হবে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৯টায় নির্দিষ্ট থানার অফিসারকে ফোন করে তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে গ্রেফতার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের পুরোনো এক মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৯৮ সালের (প্রায় দুই দশক পুরনো) একটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে খুন ও খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত ও মারধর, লুটপাটের মতো সব অভিযোগ আনা হয়েছিল।
পুলিশের দাবি, উনিশ বছর ধরে পলাতক ছিলেন ধৃত কংগ্রেস নেতা। উপনির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারি ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। গ্রেফতারির পর আরও একটি মামলায় তাঁকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। মিলন প্রধানকে কাঁথি আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থানার একটি মামলায় মিলনকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় হলদিয়া আদালত।
আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে রাজ্যের দুই কেন্দ্র পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে। নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ভোট নিয়ে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। তার আগে নন্দীগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেয় মমতা-তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। তারপরই সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেস প্রার্থীকে নন্দীগ্রামে সমর্থনের কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এরই মধ্যে সিপিআই প্রার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠল নন্দীগ্রামে। সোমবার কংগ্রেসের প্রচার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, সোমবার সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামের দাউদপুর মুসলিম এলাকায় প্রচারে গিয়েছিলেন বামফ্রন্টের সিপিআই প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি। সেই সময় তাঁর উপর কয়েকজন চড়াও হন বলে অভিযোগ। তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি জামাকাপড় ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
