বিহারের জামতারা গ্যাং -এর স্টাইলে প্রতারণার ছক এবার পশ্চিমবঙ্গের বুকে। প্রতারকদের ক্রিমিনাল মাইন্ড লুট করেছে বহু মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ। তবে শেষ পর্যন্ত ধরা পড়তেই হল পুলিশের জালে।
রিষড়ার একটি আবাসনের ফ্ল্যাটে দিনের পর দিন চলতো প্রতারণার খেলা। লটারি জেতার প্রলোভন, সহজে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস আর সেই ফাঁদে পা দিলেই মুহূর্তে খোয়া যেত অর্থ। অবশেষে পুলিশি তৎপরতায় ধরা পড়লো এই মিনি জামতারা গ্যাং।
জানা গিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রিষড়ার তিনটি ভাড়া ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় রিষড়া থানার পুলিশ। অভিযানের নেতৃত্ব দেন ওসি পরমেশ্বর প্রামাণিক। তিনটি ফ্ল্যাটের মধ্যে একটি বন্ধ থাকলেও বাকি দুটি ফ্ল্যাট থেকে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হয়েছে ২১ টি মোবাইল ফোন, ১৬ টি ডেবিট কার্ড, ৩ টি পাসবই, ৩ টি চেকবই এবং একটি মেট্রো কার্ড।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন থেকে রিসরায় ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন। বিভিন্ন রাজ্যের মানুষকে ফোন করে প্রতারণার জাল ছড়িয়ে ছিলেন তারা। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্নাটক-সহ একাধিক রাজ্যের বাসিন্দারা এই চক্রের শিকার হয়েছেন। বহু পরিকল্পনা পর এই প্রতারণা চক্রটি ধরা পড়েছে । পুলিশ তদন্ত করে দেখছে সবকিছু।
এ বিষয়ে চন্দননগরের পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৩৩ টি সাইবার প্রতারণার ঘটনার সঙ্গে এই ধৃতদের যোগসূত্র মিলেছে। এই প্রতারণা চক্র প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অনুমান তাদের।
পুলিশের দাবি, এই প্রতারণা চক্র পরিচালিত হত ঝাড়খণ্ডের কুখ্যাত জামতারা গ্যাংয়ের কায়দায়। কখনো লটারি জেতার প্রলোভন, কখনো সহজে লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত অভিযুক্তরা। রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় যেখানে এই প্রতারণা চক্র নিজেদের জাল লিখিয়েছিল সেই রাজ্যের পুলিশদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অতি সাধারণ শান্ত একটি আবাসনের চার দেয়ালের মাঝে এত বড় সাইবার প্রতারণার সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল তা বুঝে উঠতে পারেননি আশেপাশের মানুষজন। এই ঘটনার খবর চাউর হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। এই ঘটনার সঙ্গে আরো কারা কারা জড়িত রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।




