কলকাতা, পিউ নন্দী: ‘কমলা নিবাস’-এর সেটে বৃষ্টিভেজা আড্ডায় দেবাদৃতা, প্রেম, নাচ ও নতুন সমীকরণ। টানা বৃষ্টির মধ্যে ইন্দ্রপুরী স্টুডিয়োর অন্দরে তখন গমগম করছে ‘কমলা নিবাস’-এর সেট। কৃত্রিম চায়ের দোকান থেকে ফুলের গুমটি চেনা সেটেই মেকআপ রুমে ফুরফুরে মেজাজে ধরা দিলেন অভিনেত্রী দেবাদৃতা বসু।
‘জয়ী’ দিয়ে ছোটপর্দায় হাতেখড়ি হলেও ভক্তদের মনে এখনও ‘মীরাবাঈ’ হিসেবেই তাঁর বিশেষ জায়গা। বর্তমানে ‘কমলা নিবাস’-এর ‘পল্লবী’ হিসেবে দর্শকদের ড্রয়িংরুমে পৌঁছে যাচ্ছেন তিনি। ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ব্যস্ততার মাঝে মেকআপ রুমেই একান্ত আলাপে ধরা পড়ল তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের নানা দিক।কাজের তুমুল ব্যস্ততার মাঝে প্রেমিক রাহুলের মুম্বই-কলকাতা যাতায়াত নিয়ে সম্পর্ক এখন কিছুটা দূরত্বেই বাঁধা। তবে দূরত্ব নিয়ে বিশেষ চিন্তিত নন দেবাদৃতা।
অভিনেত্রীর কথায়, রাহুল কাজের পাশাপাশি সম্পর্ক সামলাতে দারুণ পারদর্শী। ব্যস্ততার মধ্যেও কাজের কথা থেকে শুরু করে সাধারণ আড্ডা নিয়মিত যোগাযোগ অটুট রেখেছেন দুজনে।
অভিনয়ের বাইরে নাচের সাধনা,শট না থাকলে বই পড়া বা গান শোনা চললেও দেবাদৃতার প্রথম প্রেম কিন্তু নাচ। মাত্র আট বছর বয়স থেকেই কত্থক, রবীন্দ্রনৃত্য, নজরুলগীতির নাচের পাশাপাশি শিখেছেন বলিউড ফ্রি-স্টাইলও। অভিনয়ের আঙিনায় না এলে নৃত্যশিল্পী হিসেবেই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতেন বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে নাচের দুনিয়াতেই পেশাদার হিসেবে আরও বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছে তাঁর।
‘কমলা নিবাস’-এ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত চমৎকার ছিল বলে জানান অভিনেত্রী। গল্পে সাগরের মৃত্যুর পর তাঁর সন্তানকে দত্তক নিয়ে পল্লবীর লড়াই এবং আদিত্যের সঙ্গে তৈরি হওয়া নতুন সমীকরণই এখন ধারাবাহিকের মূল আকর্ষণ। সহ-অভিনেত্রী মিঠির সঙ্গে সেটের বাইরেও তাঁর বন্ধুত্ব দারুণ।
একইসঙ্গে দেবশঙ্কর হালদার ও সোহিনী সেনগুপ্তের মতো বর্ষীয়ান শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করাকে অভিনয় জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি ও শিক্ষা বলে মনে করেন দেবাদৃতা।