নিউজ ডেস্ক: চুরি করেছিল আইফোন। ভেবেছিল, হাতের মুঠোয় দামি ফোন। কিন্তু ফোন খুলতেই গিয়ে বাধল বিপত্তি। পাসওয়ার্ড জানা নেই। শেষ পর্যন্ত যে ফোনটি চুরি করেছে, সেটির মালিকের কাছেই পাসওয়ার্ড চেয়ে বার্তা পাঠাল অভিযুক্ত! দেরাদূনের ক্লেমেন্ট টাউনের এই ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা। চোরের এমন ‘বুদ্ধি’ দেখে যেমন অবাক অনেকে, তেমনই পুলিশের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
ঘটনাটি গত ১২ সেপ্টেম্বরের। দেরাদূনের সানশাইন এনক্লেভে এক তরুণের ঘর থেকে আইফোন-সহ একাধিক জিনিস চুরি যায় বলে অভিযোগ। অভিযোগকারী কৌশিকী ধ্যানীর দাবি, ওই এলাকার একটি বাড়ি থেকেই একাধিক মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, ম্যাকবুক-সহ বহু মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়েছে। আশপাশের পিজি এবং হস্টেলেও একই সময়ে চুরির অভিযোগ ওঠে।
কিন্তু আইফোন চুরির ঘটনাটি হঠাৎ অন্য মোড় নেয় কয়েক দিন পর। কৌশিকীর দাবি, চুরি যাওয়া ফোনটির লক স্ক্রিনে একটি যোগাযোগের নম্বর দেখা যাচ্ছিল। সেই নম্বরেই নাকি ফোনটি হাতে থাকা ব্যক্তি যোগাযোগ করেন। তার পর এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে চাওয়া হয় ফোনের পাসকোড।অর্থাৎ, যে ফোন চুরি করা হয়েছিল, সেটি খুলতে গিয়ে কার্যত চোরকেই মালিকের কাছে ‘আবেদন’ করতে হল!
কৌশিকীর দাবি, বারবার পাসওয়ার্ড চাওয়া হচ্ছিল। তিনি সেই বার্তার স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করেন এবং পুলিশকে বিষয়টি জানান। সঙ্গে দেন সিসিটিভি ফুটেজ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবিও। তাঁর প্রশ্ন, অভিযুক্ত নিজেই যখন চুরি করা ফোন থেকে যোগাযোগ করছে, তখন তাকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই তথ্যগুলি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে না কেন?
ঘটনার আরও একটি দিক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৌশিকী। তাঁর অভিযোগ, ফোন চুরির পর পুলিশে যোগাযোগ করতে গিয়ে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এমনকি অভিযোগ নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি। এক বার রাত প্রায় ১০টা নাগাদ থানায় গিয়ে ওই বার্তার কথা জানানোর পরও তাঁকে পরের দিন আসতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
শুধু একটি ফোন নয়, ক্লেমেন্ট টাউনে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। একই বিল্ডিং থেকে পাঁচ-ছ’টি মোবাইল এবং ল্যাপটপ চুরি যাওয়ার কথা জানিয়েছেন কৌশিকী। তাঁর দাবি, আশপাশের পিজি এবং হস্টেলেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ১২ সেপ্টেম্বরের পরেও এলাকায় আরও চুরির অভিযোগ সামনে এসেছে বলে দাবি তাঁর। তবে সব ক’টি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
এ দিকে পুলিশের বক্তব্য, ফোন হারানোর অভিযোগ পাওয়ার পর সেটিকে ট্র্যাক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে পুলিশ আদৌ নিষ্ক্রিয় ছিল কি না, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।
তবে আপাতত গোটা ঘটনায় সবচেয়ে চমকপ্রদ হয়ে রয়েছে সেই একটি বিষয়ই—চুরি করা আইফোন খুলতে গিয়ে চোরকেই ফোনের মালিকের কাছে পাসওয়ার্ড চাইতে হল!
চোরের উদ্দেশ্য কী ছিল? ফোনটি নিজের ব্যবহারের জন্য খুলতে চেয়েছিল, নাকি অন্য কারও হাতে বিক্রি করার আগে সেটি আনলক করা দরকার ছিল? তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—চুরি করা ফোনের মালিকের সঙ্গে এ ভাবে যোগাযোগ করায় অভিযুক্ত নিজেই তদন্তকারীদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র তুলে দিয়ে থাকতে পারে।
চুরি করে পালিয়েও শেষ পর্যন্ত নিজের ‘চাবি’র জন্য মালিকের দরজায় কড়া নাড়ল চোর। এখন সেই বার্তাই কি তাকে পুলিশের জালে টেনে আনবে?
