কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: প্রযুক্তির হাত ধরে বদলাচ্ছে দেশের পরিবহণ ব্যবস্থা। তারই বড়সড় ছাপ এ বার রাজধানী দিল্লির গণপরিবহণে। গত দেড় বছরে বৈদ্যুতিক বাসের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে বলে জানালেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। শুধু শহরের ভিতরের পরিষেবাই নয়, আন্তঃরাজ্য যোগাযোগেও এ বার ই-বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহিলাদের যাতায়াত আরও স্বচ্ছন্দ ও নিরাপদ করতে ‘লেডিস স্পেশাল’ বাস পরিষেবার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহণের পাশাপাশি মহিলাদের সুবিধা-অসুবিধার দিকটিকেও যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেই বার্তাই স্পষ্ট।
সমাজ মাধ্যমে একটি পোস্ট করে রেখা জানিয়েছেন, গত দেড় বছরে দিল্লির গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। তাঁর দাবি, দিল্লির হাতে বর্তমানে রয়েছে দেশের বৃহত্তম বৈদ্যুতিক যানবাহনের বহর। সেই বহরেই খুব শীঘ্রই যোগ হতে চলেছে আরও ২০০টি নতুন বৈদ্যুতিক বাস। দূষণ কমানো, জ্বালানি-নির্ভরতা হ্রাস এবং পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করে তোলার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রচলিত জ্বালানিচালিত বাসের পাশাপাশি ই-বাসের সংখ্যা বাড়লে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণের পরিধিও আরও বাড়বে।
তবে দিল্লি সরকারের ঘোষণায় সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিকগুলির একটি হল আন্তঃরাজ্য বাস পরিষেবায় ই-বাসের অন্তর্ভুক্তি। দীর্ঘ দিন ধরে কার্যত থমকে থাকা দিল্লি-কর্ণাল আন্তঃরাজ্য যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন করে পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পথে বৈদ্যুতিক বাস চালু হলে দিল্লির সঙ্গে হরিয়ানার গুরুত্বপূর্ণ শহরটির যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। দৈনন্দিন যাত্রীদের পাশাপাশি কর্মসূত্রে বা অন্যান্য প্রয়োজনে দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত করা মানুষেরও সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃরাজ্য গণপরিবহণে বৈদ্যুতিক বাসের ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি রুটে এমন পরিষেবার দরজা খুলে দিতে পারে।
আর এই গোটা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহিলাদের জন্য বিশেষ বাস পরিষেবা। রেখার কথায়, ‘লেডিস স্পেশাল’ বাস মহিলাদের যাতায়াতকে আরও সুবিধাজনক করে তুলবে। অর্থাৎ শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোই নয়, গণপরিবহণকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে কর্মজীবী মহিলা, পড়ুয়া এবং নিয়মিত যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ পরিবহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ২০০ নতুন ই-বাস, দিল্লি-কর্ণাল ই-বাস পরিষেবা এবং ‘লেডিস স্পেশাল’ এই তিন উদ্যোগকে একসঙ্গে দেখলে রাজধানীর গণপরিবহণ ব্যবস্থায় প্রযুক্তি, পরিবেশ ও নারীসুরক্ষার সমন্বিত রূপরেখাই ফুটে ওঠে।