নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে CJP-এর আন্দোলন ঘিরে নিরাপত্তা আরও কড়া করছে পুলিশ। পুলিশের খাতায় থাকা ২৮৭৩ জনকে আন্দোলনে যোগ দেওয়া থেকে আটকানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে এবারও ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসিয়াল রেকগনিশন ক্যামেরা (FRC)।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সময় এই প্রযুক্তির সাহায্যে আন্দোলনকারীদের ভিড়ের মধ্যে থেকে বেশ কয়েক জনকে শনাক্ত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে খুন, কারও বিরুদ্ধে ধর্ষণ-সহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার পরই এবার দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল এলাকায় ফের ফেসিয়াল রেকগনিশন ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের নজরে থাকা ২৮৭৩ জনের মধ্যে যাঁরা CJP-এর আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন, তাঁদের চিহ্নিত করার জন্য প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হবে। আন্দোলনের আগে থেকেই দিল্লির বিভিন্ন ‘হটস্পটে’ নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্যামেরায় কোনও ব্যক্তির মুখ শনাক্ত হলে তা পুলিশের ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনও মামলা বা অপরাধের রেকর্ড থাকলে তাঁকে আন্দোলনস্থলে পৌঁছনোর আগেই আটকানো হতে পারে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। পুলিশের খাতায় নাম থাকা মানেই যে কোনও ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত—এমন নয়। কারও বিরুদ্ধে মামলা থাকতে পারে, আবার সেই মামলার বিচারও চলতে পারে। ফলে শুধুমাত্র পুলিশের রেকর্ডের ভিত্তিতে কাউকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া থেকে আটকানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নাগরিক অধিকার নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেই কারণেই আগাম নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে অতীতে আন্দোলনের সময় শনাক্ত হওয়া অভিযুক্তদের কথা মাথায় রেখেই এবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফলে CJP-এর আসন্ন আন্দোলনের আগে দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারই এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়। একদিকে পুলিশের দাবি, এটি নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ; অন্যদিকে, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করে আগেই বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নজরদারি ও নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নও সামনে আসছে।