নিউজ ডেস্ক: দিল্লির কনট প্লেসে ধুন্ধুমার, আটক সহযোদ্ধাদের বাস আটকাতে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে পুলিশি বাসের সামনে এসএফআই নেত্রী, ‘ঝান্ডা টাচ নেহি করনে কা’ ধ্বনিতে কাঁপল রাজপথ
আটক সহযোদ্ধাদের মুক্তির দাবিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দিল্লির কনট প্লেস। রাতের আলোর ঝলকানি আর পথচলতি মানুষের ব্যস্ততার মাঝেই হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেল চারপাশ। আটক আন্দোলনকারীদের নিয়ে কনট প্লেস ছেড়ে বেরনোর মুখে দিল্লি পুলিশের প্রিজন ভ্যানের পথ একাই রুখে দাঁড়ালেন এক তরুণী স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া-র কর্মী সখী। তাঁর শরীরে জড়ানো ভারতের জাতীয় পতাকা তেরঙা। সেই অবস্থাতেই পুলিশের বিশালাকার নীল বাসের সামনের বোনেটে কার্যত লাফিয়ে উঠে উইন্ডশিল্ড আঁকড়ে ধরে বাসটির গতি থামিয়ে দেন তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে মুহূর্তের মধ্যে প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে চত্বরে। বাসের ভেতরে বন্দি আন্দোলনকারীরা তখন সমানে আওয়াজ তুলছেন, আর বাইরে রাস্তায় ভিড় জমিয়েছেন সহকর্মী ও পথচারীরা। বাস আটকাতে মরিয়া তরুণীকে নিচে নামাতে এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত মহিলা পুলিশকর্মীরা। শুরু হয় প্রবল ধস্তাধস্তি। অভিযোগ, বাস থেকে তাঁকে জোর করে নামানোর চেষ্টায় এক মহিলা পুলিশকর্মী তরুণীর গায়ে জড়ানো জাতীয় পতাকায় সজোরে টান মারেন।
পতাকায় টান পড়তেই চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন সখী। বাসের সামনে ঝুলন্ত অবস্থাতেই পুলিশকর্মীর দিকে আঙুল তুলে তীব্র স্বরে চিৎকার করে ওঠেন তিনি “ঝান্ডা টাচ নেহি করনে কা!” অর্থাৎ জাতীয় পতাকায় হাত দেবেন না। জাতীয় পতাকার অবমাননা না করার এই স্পষ্ট ও তীব্র প্রতিবাদের দৃশ্য নিমেষে বদলে দেয় উত্তেজনার মাত্রা। এক মুহূর্তের জন্য যেন কিছুটা থমকে যান আশপাশের কর্তব্যেরত পুলিশকর্মীরাও।
https://x.com/sighyush/status/2109286490127864143
তবে নাটকীয়তার রেশ সেখানেই কাটেনি। সহকর্মীদের আটক করে নিয়ে যাওয়া মানতে না পেরে সখী এক চুলও নড়তে চাননি বাসের সামনে থেকে। বাসের ওয়াইপার ও বনেট শক্ত করে চেপে ধরে একটানা স্লোগান দিতে থাকেন তিনি। চারপাশে তখন কয়েকশো মোবাইল ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলছে, উপস্থিত ছাত্র-যুবরা সমস্বরে স্লোগানে ফেটে পড়ছেন। শেষপর্যন্ত একাধিক পুলিশকর্মী যৌথভাবে ধস্তাধস্তি করে তাঁকে কোনোমতে বাসের বনেট থেকে নামিয়ে চ্যাংদোলা করে আটক করেন এবং ভিড়ের হাত থেকে সরিয়ে নেন।
কনট প্লেসের বুকে ঘটে যাওয়া এই টানটান মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যে নেটদুনিয়ায় তীব্র আলোড়ন ফেলেছে। আন্দোলনকারীদের আটকাতে গিয়ে দেশের জাতীয় পতাকার মতো সংবেদনশীল প্রতীককে এভাবে টানাটানি করার অভিযোগ তুলে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অন্য দিকে, আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত পদক্ষেপ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে দাবি প্রশাসনিক মহলের।
