নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড়সড় কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে রাজধানীতে নজিরবিহীন প্রতিবাদে নামল ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্ব। সোমবার বিকেলে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা। কিন্তু তিলক মার্গের শীর্ষ আদালত চত্বরে পৌঁছনোর আগেই ভগবান দাস রোডে বিশাল পুলিশবাহিনী ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয়। এর জেরে মধ্য দিল্লির রাজপথে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মূলত নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক হারে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ও গরমিলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ দিনের সংঘাত। এই প্রেক্ষিতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ ও তদন্তের দাবি উঠেছে।
ইতিমধ্যে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, তৃণমূলের সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব এবং আরজেডি-র তেজস্বী প্রসাদ যাদবের মতো বিরোধী নেতৃত্বের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতে একটি যৌথ পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।
https://x.com/IndianExpress/status/2109600135655338320?s=20
মিছিলের মুখে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কড়া সুরে তোপ দাগেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, গোটা দেশে আন্দোলন কোনও বিচ্ছিন্ন রূপ নয়, বরং একজোট হয়ে এক দাবিতেই চলছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে না, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের চাপেই পুরো সংস্থা পরিচালিত হচ্ছে। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই থামবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
গত শনিবার থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর পরিস্থিতি। যন্তর মন্তরে জমায়েত রুখতে গিয়ে পুলিশ বহু আন্দোলনকারীকে আটক করেছিল। পরে বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানকে প্রতিবাদের জায়গা হিসেবে ধার্য করা হলেও বিরোধীদের ক্ষোভ সরাসরি রাজপথে আছড়ে পড়েছে।
বিক্ষোভের আঁচ পড়ে শহরের গণপরিবহনেও। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে জানপথ, মান্ডি হাউস, বারখাম্বা রোড, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক এবং পটেল চক এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় ডিএমআরসি। যদিও যাত্রীদের জন্য ইন্টারচেঞ্জ ব্যবস্থা চালু রাখা হয়। তবে প্রতিবাদের নামে সাধারণ নাগরিক পরিষেবা ও ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হওয়া নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রশাসনকে সংবিধানের ১৯(২) ধারা মেনে আইনশৃঙ্খলা বজায় রেখেও স্বাভাবিক মেট্রো চলাচল ও ইন্টারনেট সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
