নিট প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের আবহে অবশেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। তবে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, শনিবার ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার অনেক আগেই তিনি দু’বার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। সরকারের ধারণা ছিল, পরিস্থিতি প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও সংস্কারের মাধ্যমে সামাল দেওয়া সম্ভব হবে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের চাপ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করা হয়।
নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলেছিল। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বেও এই দাবিকে সামনে রেখে দীর্ঘ আন্দোলন গড়ে ওঠে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মঘাতী পড়ুয়াদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছিল।
সূত্রের খবর, আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তে শুরু করলে ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রথমবার ইস্তফার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁকে জানিয়ে দেয়, চাপের মুখে মন্ত্রী পদ ছেড়ে দিলে ভুল বার্তা যাবে। সরকারের অবস্থান ছিল, সংকট থেকে পিছিয়ে না গিয়ে সমস্যার সমাধান করাই তাদের নীতি।
এরই মধ্যে কেন্দ্র একাধিক পদক্ষেপ নেয়। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র ৪৭ জন আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়। প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন আনার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দু’বার ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পড়ুয়া ও যুব সমাজকে আশ্বস্ত করেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের কথাও জানান। তবুও আন্দোলনের জোর কমেনি।
২০ জুলাই দিল্লিতে সংসদ ভবন অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী জমায়েত হন। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও লাঠিচার্জের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময়ও ধর্মেন্দ্র প্রধান দ্বিতীয়বার পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তখনও নেতৃত্ব তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেনি।
পরিস্থিতির মোড় ঘোরে সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংহের ধারাবাহিক বৈঠকের পর। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না। পাশাপাশি আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টেও আন্দোলনের বিস্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি। দিল্লির বাইরে বিভিন্ন শহরেও প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ছিল। সব দিক বিবেচনা করে অবশেষে শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠান। রাষ্ট্রপতি সেই ইস্তফা গ্রহণ করেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কেন্দ্র নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রহ্লাদ জোশীর নাম ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, সিজেপি এই ঘটনাকে আন্দোলনের সাফল্য বলে দাবি করেছে এবং এই জয় দেশের ছাত্র-যুব সমাজের বলে উল্লেখ করেছে।