চেন্নাই: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের লন্ডন সফর ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। রাজ্যে বিনিয়োগ টানা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এক সপ্তাহের সফরে ব্রিটেনে গিয়েছেন তিনি। কিন্তু সফরের মধ্যেই লন্ডনের সিলভারস্টোন মোটর রেসিং সার্কিটে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলি।
১০ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেন বিজয়। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন মন্ত্রিসভার সদস্য আধব অর্জুনা এবং কয়েক জন সরকারি আধিকারিক। ১৭ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা। তামিলনাড়ু সরকারের দাবি, সফরের মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রাজ্যে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
সফরের অংশ হিসেবে সিলভারস্টোন রেসিং সার্কিট পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোটর রেসিং ভেন্যু হিসেবে পরিচিত এই সার্কিটে তিনি রেস কন্ট্রোল এবং রেস সার্কিট এলাকা ঘুরে দেখেন। আন্তর্জাতিক মানের দীর্ঘ দূরত্বের মোটর রেস আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিচালন কাঠামো সম্পর্কেও খোঁজ নেন তিনি।
সেখানে অভিনেতা এবং মোটর রেসিং ড্রাইভার অজিত কুমারের সঙ্গেও দেখা করেন বিজয়। এই সাক্ষাৎ সামনে আসার পরই রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়।
তামিলনাড়ু সরকার সম্প্রতি রাজ্যে একটি ‘মোটর স্পোর্টস সিটি’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের বক্তব্য, সিলভারস্টোন সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মোটর স্পোর্টসের পরিকাঠামো, উন্নত প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা এবং খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়াই মুখ্যমন্ত্রীর অন্যতম লক্ষ্য।
তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। এআইএডিএমকে-র সাধারণ সম্পাদক এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এডাপ্পাডি কে পালানিস্বামী প্রশ্ন তুলেছেন, যদি সফরের মূল উদ্দেশ্য বিনিয়োগ আনা হয়, তবে এখনও পর্যন্ত সেই সংক্রান্ত কোনও স্পষ্ট তথ্য কেন সামনে এল না।
সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক পি শানমুগামও সরকারের কাছে বিনিয়োগের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, তামিলনাড়ুর ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পগুলিকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফর এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত দাবিতে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।
ডিএমকে মুখপাত্র টিকেএস এলাঙ্গোভানও কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, বিজয় বিনিয়োগ আনার কথা বলে লন্ডনে গেলেও প্রকাশ্যে যে ছবি ও খবর সামনে এসেছে, তাতে রেসিং ইভেন্টে তাঁর উপস্থিতিই বেশি নজরে পড়ছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি নাইনর নাগেন্দ্রনও সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বিদেশ সফরে মোট কত টাকা খরচ হয়েছে এবং কারা কারা সফরসঙ্গী হয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
অন্য দিকে, বিজয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে এমডিএমকে। সাংসদ দুরাই ভাইকোর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং শিল্পমহলের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি তামিলনাড়ুর মোটর স্পোর্টস পরিকাঠামো উন্নয়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতেই লন্ডনে গিয়েছেন। শিল্পপতিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য ও ছবি পরে প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ফলে বিদেশ সফর শেষ হওয়ার আগেই বিজয়ের লন্ডন যাত্রা রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। শেষ পর্যন্ত কত বিনিয়োগ আসে এবং সফরের ফলাফল কী দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক মহলের।