নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের আবহে নয়াদিল্লিতে ব্রিক্স সম্মেলন ঘিরে বড় কূটনৈতিক বার্তা সামনে এল। একে অপরের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কে থাকা ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শীর্ষ নেতৃত্ব সম্মেলনের ফাঁকে সরাসরি আলোচনায় বসল। প্রায় ছ’মাস পর দুই দেশের মধ্যে এই যোগাযোগকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক বরফ গলার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
ভারতের আয়োজিত দু’দিনের ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধি হিসেবে আবু ধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জ়ায়েদ আল নাহয়ান। সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের মধ্যে বৈঠক হয়। এরপরই ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে উঠে আসে অতীতের সংঘাত সরিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা।
রবিবার সম্মেলন শেষে ইরানে ফেরার আগে পেজেশকিয়ান জানান, আবু ধাবির যুবরাজের সঙ্গে তাঁর ‘খুব ভাল’ আলোচনা হয়েছে। দুই পক্ষই অতীতকে পিছনে রেখে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি, আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ইরান ও আমিরশাহির সম্পর্ক যথেষ্ট চাপের মধ্যে ছিল। পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তেহরান আমিরশাহিকে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ দেশ হিসেবে দেখে। ইরানের অভিযোগ ছিল, আমিরশাহির কিছু ঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। অন্য দিকে, ইরানের হামলায় আমিরশাহির একাধিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা আছড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি মুখোমুখি হওয়া নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সংঘাত শুরুর পর এটাই তাঁদের প্রথম এমন উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্রিক্সের যৌথ বিবৃতিতেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও কোনও নির্দিষ্ট দেশের নাম করা হয়নি, সদস্য দেশগুলি আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছে। পাশাপাশি, সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির পথ অনুসরণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই যৌথ বিবৃতি সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করাও সহজ ছিল না বলে জানা গিয়েছে। ইরান এবং আমিরশাহি-সহ সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত একটি অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে।
এর আগে মে মাসে ব্রিক্সের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও রাশিয়া ইরান ও আমিরশাহিকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিল। দিল্লির মঞ্চে সেই উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পেল।
এখন প্রশ্ন একটাই,নয়াদিল্লির এই বৈঠক কি সত্যিই পশ্চিম এশিয়ায় নতুন শান্তির পথ খুলবে? নাকি এটি কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে? আগামী দিনের পদক্ষেপই তার উত্তর দেবে।