নিজউ ডেস্ক: বছরের পর বছর ধরে জমি নিয়ে চলা বিবাদ। তারই সমাধান চেয়ে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পৌঁছে গেলেন তাঁর স্কুলজীবনের এক সহপাঠী। ৮১ বছরের আসগরালি ভোরার অভিযোগ, মুম্বইয়ের মীরা রোডের কাছে তাঁর মালিকানাধীন জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না মেলেনি। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মোদীর স্কুলের বন্ধু।
মুম্বইয়ের মীরা রোডের বাসিন্দা আসগরালি ভোরার দাবি, ১৯৮৯ সালে ভায়ান্দার পূর্বের নাভঘর এলাকায় প্রায় ২,৮১০ বর্গমিটার জমি কেনেন তিনি। পরবর্তীতে ওই সম্পত্তি নিয়ে নানা বিরোধ তৈরি হয়। তাঁর অভিযোগ, ২০১১ সালে জমিটি জবরদখল করা হয় এবং সম্পত্তির নথিপত্রেও কারচুপি করা হয়েছে। জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি কয়েকটি নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন। মূলত ‘স্বয়ম বিল্ডার্স’এবং ‘সেভেন ইলেভেন কনস্ট্রাকশনস’ নামের দুটি সংস্থার দিকে আঙুল তুলেছেন ভোরা। জমি কেলেঙ্কারিতে স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক নরেন্দ্র মেহতার নামও জড়িয়েছে। ওই দু’টি নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি আসগরের।
এরপর বিষয়টি নিয়ে ২০১৫ সালে পুলিশের কাছে FIR দায়ের করা হয়েছিল। এরপর রাজস্ব দফতর থেকে শুরু করে পুরসভা ও পুলিশের বিভিন্ন দফতরে বারবার যোগাযোগ করেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভোরা।
গুজরাতের ভাদনগরের বি এন স্কুলে পড়ার সময় নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল বলে জানিয়েছেন ভোহরা। সেই পুরনো সম্পর্কের সূত্রেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের সমস্যার কথা জানান তিনি। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের এই লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন
আসগরালি ভোরা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জমির লড়াই নিয়ে কার্যত আশাবাদী ওই বৃদ্ধ।
ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকের পরই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন।
জমি-বিতর্ক ঘিরে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থাগুলির প্রতিনিধিদেরও সেখানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এখন প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় এই দীর্ঘদিনের জমি-বিবাদের কী সমাধান হয়, সেটাই এখন দেখার।