কলকাতা, স্পোর্টস ডেস্ক: আরও একবার 'ট্রফি চোর' মহসিন নকভি। গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপে সূর্য কুমার যাদবের দল তাঁর হাত থেকে ট্রফি না নেওয়ায় তা সঙ্গে নিয়েই চলে গিয়েছিলেন পাক বোর্ড তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। রবিবারের দুবাইয়েও বদলাল না সেই কূটনৈতিক সংঘাতের ছবিটা। শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবার মহিলা এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এল না হরমনপ্রীত কউরের ভারতও। কারণ, এ বারেও ট্রফি দেওয়ার কথা ছিল সেই মহসিন নকভিরই। এ দিকে এই ঘটনার পরই নকভিকে উদ্দেশ্য করে 'ট্রফি চোর' স্লোগান উঠল গ্যালারি থেকে।
নকভি শুধু এসিসি বা পিসিবি'র চেয়ারম্যানই নন। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও তিনি। তাই তাঁর হাত থেকে ট্রফি নেওয়া হবে না, এই অবস্থান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল ভারতীয় বোর্ড। গত বছর পুরুষদের এশিয়া কাপ ফাইনালের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এ বারও বিসিসিআই আগেই এসিসিকে জানিয়ে দিয়েছিল, নকভি উপস্থিত থাকলে ভারতীয় দল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটিতে যোগ দেবে না। ভারতীয় শিবিরের প্রস্তাব ছিল, এসিসি-র ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ আল জারুনির হাত থেকে ট্রফি নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু সেই প্রস্তাব নকভি গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানই বয়কট করে ভারত। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া পরে জানান, বোর্ড নিজেদের আগের অবস্থানেই অটল রয়েছে।
এর পরেই ঘটল আরও নাটকীয় ঘটনাটি। ভারতীয় দল যখন ট্রফি ছাড়াই সাফল্য উদ্যাপন করল, নকভি মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে আবার উঠল ‘ট্রফি চোর’ স্লোগান। গত বার মেন ইন ব্লু-ও মঞ্চে উঠে ট্রফি ছাড়াই উদ্যাপন করেছিল। এ বার মহিলা দল মঞ্চেও উঠলেন না। বিসিসিআই সচিবের তরফে নন্দিনী শর্মাকে ইন-হাউস সেরা ফিল্ডারের পদক দেওয়া হলেও বাকি ক্রিকেটারেরা আর মাঠে ফেরেননি। শ্রীলঙ্কার দল অবশ্য নকভির হাত থেকে রানার্স আপ চেক নিয়েছে। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুও নকভির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। নকভি তার পরেই মাঠ ছাড়েন। তবে এ বার তাঁর হাতে ট্রফি ছিল না।
এই বিতর্কের পিছনে রয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং তার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ। সেই আবহে দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যেও বহুজাতিক প্রতিযোগিতাগুলিতে হাত না মেলানোর অলিখিত নিয়ম চলছে। ভারত অবশ্য এশিয়া কাপ জিতেছে। ট্রফির দাবিও ছাড়েনি। স সাইকিয়ার কথায়, উপযুক্ত সময়ে আনুষ্ঠানিক পথেই দুই এশিয়া কাপের ট্রফি বিসিসিআইয়ের হাতে ফিরবে। অর্থাৎ মাঠে ভারতের জয় নিশ্চিত। কিন্তু ট্রফি নিয়ে লড়াই এখনও শেষ হয়নি।