জম্মু কাশ্মীর, নিউজ ডেস্ক: দেশের উত্তর সীমান্ত এবং জম্মু ও কাশ্মীরের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতের উত্তর সীমান্তে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনা মোতায়েনে উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে এবং কাশ্মীর উপত্যকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বর্তমানে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে সামগ্রিক আবহ শান্ত হলেও সীমান্তবর্তী অনিশ্চয়তার কথা মাথায় রেখে ভারতীয় বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রেখেছে।
রিপোর্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ২০২৫ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন এলাকায় চিনের সামরিক উপস্থিতির বহর আগের চেয়ে কমেছে। বর্তমানে সীমান্তের ওপারে এবং চিনের নিজস্ব প্রথাগত প্রশিক্ষণ অঞ্চলগুলিতে কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেডের সমতুল্য প্রায় দশটি করে বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ওপারে সেনার সংখ্যা কমলেও ভারতীয় ফৌজ কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না। এলএসি-র প্রতিটি স্পর্শকাতর সেক্টরেই ভারতীয় বাহিনী সুসংহত অবস্থানে রয়েছে, যাতে যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি তৈরি হলে মুহূর্তের মধ্যে কঠোর জবাব দেওয়া সম্ভব হয়।
অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় সেনার নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির ফলে উপত্যকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। নিরাপত্তার এই ইতিবাচক পরিবর্তনের কারণে কাশ্মীরে সার্বিক হিংসার মাত্রা অভূতপূর্বভাবে কমেছে, সাধারণ বিক্ষোভ কর্মসূচি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং পাথর ছোঁড়ার মতো সংঘাতমূলক ঘটনা সম্পূর্ণ শূন্যে নেমে এসেছে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'অপারেশন সিঁদুর'-এর সময়ে জম্মু ও কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং নিয়ন্ত্রণরেখার সংবেদনশীলতা অনেকটাই বদলে গিয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ ও ১২ মে ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক অভিযান বিষয়ক ডিরেক্টর জেনারেল পর্যায়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর সীমান্ত পরিস্থিতি অনেকটাই স্থিতিশীল হলেও নিয়ন্ত্রণরেখার অনিশ্চয়তা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে উপত্যকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সীমান্তে চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক পাহারা জারি রেখেছে ভারতীয় সেনা।