কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: যুবভারতীতে টানটান স্নায়ুর লড়াই। গোল এল না ৯০ মিনিটে। কিন্তু টাইব্রেকারে বাজিমাত করল ইস্টবেঙ্গল। বুধবার ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে এসসি দিল্লিকে পেনাল্টি শুটআউটে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পাকা করল অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের দল। নির্ধারিত সময়ে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে না পারা লাল-হলুদের ত্রাতার ভূমিকায় গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল। এ বার রবিবারের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের সামনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান অথবা নর্থইস্ট ইউনাইটেড।
পিভি বিষ্ণুর না থাকাটা চিন্তায় রেখেছিল দলকে। তবু শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁপিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু গোলের মুখ খোলেনি। ১৬ মিনিটে মহম্মদ রশিদের দুরন্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। মিনিট তিনেক পর জেসিন টি-কের শটেও একই পরিণতি। পাল্টা আক্রমণে ৩২ মিনিটে সুযোগ নষ্ট করে এসসি দিল্লি। তার পরেই বক্সে রদ্রিগোকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেয় ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু দস্তানা হাতে ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান গিল। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ডের পেনাল্টি আটকে দেন তিনি। অবশ্য প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও বলের দখলে এগিয়ে ছিল লাল-হলুদ বাহিনীই।
দ্বিতীয়ার্ধেও গোলের খোঁজে একের পর এক আক্রমণ চালায় ইস্টবেঙ্গল। দিল্লির প্রতি-আক্রমণ সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন আনোয়ার আলি। ৫৭ মিনিটে জোড়া বদল এবং পরে জেসিনকে তুলে ডেভিড নামিয়েও গোলের তালা খোলা যায়নি। ৭৪ মিনিটে ফের রশিদের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক বদলে পোস্টে আঘাত করে ফিরে আসে। অর্থাৎ ম্যাচে দু’বার পোস্টে লাগল রশিদের শট। তার সঙ্গে জেসিনের পোস্টে মারা শট—মোট তিনবার ইস্টবেঙ্গলের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় গোলপোস্ট। ৭৫ মিনিটে ডেভিডের সামনে শুধু গোলরক্ষক থাকলেও সেই সুযোগও নষ্ট হয়। ফলে গোলশূন্য ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানেই ঠান্ডা মাথায় কাজ শেষ করেন গিল। আনোয়ার আলি, রোহিত দানু, লালচুংনুঙ্গা, ক্রিস ইকোনোমিডিস এবং রশিদ—লাল-হলুদের পাঁচ শুটারই বল জালে পাঠান। দিল্লির প্রথম শট নিতে আসা জুয়ান সেবাস্তিয়ান পেনার পেনাল্টি আবারও রুখে দেন গিল। রদ্রিগো, ডুভান এবং মহম্মদ আইমেন গোল করলেও সেই একটি মিসই হয়ে যায় পার্থক্য। ৫-৩ ব্যবধানে জিতে ২০২৩ সালের পর ফের ডুরান্ড কাপের ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল। তবে ফাইনালে দেখা হতে পারে মোহনবাগানের সঙ্গে। যাদের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচেই হারতে হয়েছিল লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবকে। কাজেই, এই ম্যাচের আগে গোলের সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতা যে হাবাসকে ভাবাবে, তা বলাই বাহুল্য।