কলকাতা, বিশ্বদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়: ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে উঠেও স্বস্তি নেই ইস্টবেঙ্গল শিবিরে। রবিবার কোয়ার্টার ফাইনালে ১-০ গোলে জিতে শেষ চারের টিকিট পাকা করেছে লাল-হলুদ বাহিনী। কিন্তু ম্যাচের পর দলের পারফরম্যান্সের চেয়েও বেশি করে সূচি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিলেন কোচ আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাস। তাঁর অভিযোগ, টানা ম্যাচের চাপে ফুটবলারদের ঠিকমতো অনুশীলনের সুযোগই মিলছে না। ফলে ক্লান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনই ম্যাচের প্রস্তুতিতেও পড়ছে তার প্রভাব।
রবিবারের ম্যাচে একমাত্র গোলটি করেন পিভি বিষ্ণু। তাঁর গোলে জয় এলেও একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাব। অন্য দিকে, গোলরক্ষক পূর্বা লাচেঙপার একটি ভুলের সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ ইন্ডিয়ান আর্মি পেনাল্টি আদায় করতে পারত। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা হয়নি। ফলে অল্পের জন্য বিপদ এড়িয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে লাল-হলুদ।
ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকে হাবাসের মূল নিশানা ছিল ডুরান্ডের সূচি। তাঁর কথায়, যে কোনও প্রতিযোগিতায় ভাল ফল করতে গেলে ম্যাচের পাশাপাশি প্রয়োজন পর্যাপ্ত অনুশীলন ও বিশ্রাম। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে এখন কার্যত ম্যাচের পরের দিন শুধু রিকভারি সেশনই হচ্ছে। অনুশীলনের সময় মিলছে না। হাবাস বলেন, "গত সপ্তাহ এবং চলতি সপ্তাহ, দু’বারই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে দলকে। মাত্র ১০ দিনের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হয়েছে।" তাঁর প্রশ্ন, এমন সূচিতে ফুটবলারদের নিয়ে কী ভাবে ভাল ফুটবল খেলা সম্ভব?
এতেই শেষ নয়। সুর আরও চড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল কোচ বলেন, কোয়ার্টার ফাইনালের মাত্র ৩ দিনের মাথায় সেমিফাইনাল। ‘‘ইয়ার্কি চলছে নাকি?’’—প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, "এমন সূচি ‘স্টুপিডের মতো আয়োজন। এতে যেমন ভাল ভাবে খেলার সুযোগ নেই, তেমনই শরীরকে প্রয়োজনীয় বিশ্রাম দেওয়ারও সময় নেই।" সেমিফাইনালের আগে তাই ম্যাচ জেতার পাশাপাশি ফুটবলারদের ক্লান্তি কাটানোই এখন ইস্টবেঙ্গলের বড় চ্যালেঞ্জ। হাবাসের ক্ষোভের প্রভাব মাঠের খেলায় কতটা পড়ে, নজর থাকবে সেদিকেই।