২১ জুলাইয়ের সকালেই পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সরকারি প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-সহ মোট আটটি জায়গায় এই অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার একাধিক দল সকাল থেকেই বিভিন্ন ঠিকানায় পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে।
ইডি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাধারণ মানুষকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করত। অভিযোগ, বেশি টাকা দিলে দ্রুত ও বেশি সুবিধা মিলবে এমন আশ্বাস দিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। তদন্তে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য মিলেছে, যেখানে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। সেই সমস্ত লেনদেনের উৎস ও অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
জানা গিয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন প্রায় ১৯ হাজার মানুষ। একটি এফআইআরের ভিত্তিতে শুরু হওয়া মামলার তদন্তেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বনগাঁর চারটি ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি। তদন্তে উঠে আসা কয়েকজনের মধ্যে অভিজিৎ ও রাহুল নামে দুই ব্যক্তির খোঁজে তাঁদের বাড়িতেও যান আধিকারিকরা। তবে অভিযানের সময় তাঁদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। জানা গিয়েছে, অভিজিৎ কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে রয়েছেন, আর রাহুলের অবস্থান এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তাঁদের বাড়ি ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিনে এই ইডি অভিযানকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীরা এই আর্থিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছেন।




