নিউজ ডেস্ক: ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক নিয়োগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সল্টলেকে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন বিজেপিপন্থী চিকিৎসকদের একাংশ। সরকারি ও বেসরকারি,দুই ক্ষেত্রের চিকিৎসকরাই এই বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজ্যে ভুয়ো চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন এবং তাঁদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে মেডিক্যাল কাউন্সিল যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা পালন করেনি।
বিক্ষোভের সময় অভিনব প্রতিবাদও দেখা যায়। মেডিক্যাল কাউন্সিলের দফতরের সামনে দু’টি ছাগল নিয়ে আসেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের গলায় রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় এবং প্রাক্তন সভাপতি নির্মল মাজির ছবি ঝোলানো ছিল। এই নিয়ে সেখানে স্লোগানও দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবি, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় এবং সহ-সভাপতি সুশান্ত রায়কে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, কাউন্সিলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকার কারণেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভুয়ো চিকিৎসকদের কার্যকলাপের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সুদীপ্ত রায় ২০২২ সাল থেকে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি। তাঁর আগে ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল মাজি। বিক্ষোভকারীরা দু’জনেরই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ইতিমধ্যেই ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত অভিযোগে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল পাঁচ জনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার কথা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে। ওই তালিকায় রয়েছেন শেখ ইউনুস হাসান, উত্তম মাইতি, হাফিজুর হালদার, জুলফিকার মণ্ডল এবং সাইদুল হক।
এই ঘটনাতেই সামনে এসেছে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাউন্সিলের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জুলফিকার মণ্ডল এবং সাইদুল হকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর একই ৩৬৪৪২। ফলে কীভাবে একই রেজিস্ট্রেশন নম্বর দু’জনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরও নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, ২০১০ সাল থেকে ভিন্রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের মেডিক্যাল কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করা চিকিৎসকদের নথি ফের যাচাই করা হচ্ছে। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল সূত্রে জানা গিয়েছে, এমন চিকিৎসকের সংখ্যা অন্তত ছ’হাজার।
মঙ্গলবারের বিক্ষোভে বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোমের সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে, চিকিৎসক কল্যাণাশীষ মুখোপাধ্যায়, মৃন্ময় অধিকারী-সহ অনেকে সেখানে ছিলেন। সরকারি চিকিৎসকদের পক্ষ থেকেও কয়েক জন চিকিৎসক বিক্ষোভে যোগ দেন।
বিক্ষোভকারীদের একটি প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ডেপুটেশন দেয়। একইসঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন কয়েক জন চিকিৎসক। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগ ওঠার পর দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি সুদীপ্ত রায় বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই পাঁচ জন ‘ভুয়ো’ চিকিৎসকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি গত ১০ বছরে ভিন্রাজ্য থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক হয়ে এ রাজ্যে রেজিস্ট্রেশন করা চিকিৎসকদের নথিও যাচাই করা হবে।
ফলে ভুয়ো চিকিৎসক সংক্রান্ত বিতর্কে এখন একদিকে চলছে প্রশাসনিক ও আইনি তদন্ত, অন্যদিকে সরব হয়েছেন চিকিৎসকদের একাংশ। আগামী দিনে নথি যাচাইয়ের পর আরও কতজনের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, সেদিকেই নজর রয়েছে।
