নিউজ ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক জিনিস রয়েছে, যেগুলি আমরা মূল্যহীন ভেবে সহজেই ফেলে দিই। অথচ সেই বাতিল উপাদানগুলি ভবিষ্যতে প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। রান্না ঘরের সাধারণ একটি বর্জ্যপদার্থকে ঘিরে ভারতীয় গবেষকদের সাম্প্রতিক পরীক্ষা সেই সম্ভাবনাকেই সামনে এনেছে। তাঁদের এই উদ্ভাবন সফলভাবে ব্যবহার করা গেলে ছোট বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানোর ক্ষেত্রে বিকল্প শক্তির নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
জানা গিয়েছে, এই অভিনব প্রযুক্তিটি তৈরি করেছেন জয়পুরের মালব্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষক মানস তিওয়ারি এবং দীপক ভারতী। এই প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হয়েছে ট্রাইবোইলেকট্রিক এফেক্ট। এই পদ্ধতিতে দুটি ভিন্ন উপাদান পরস্পরের সঙ্গে ঘষা খেলে তাদের মধ্যে ইলেকট্রনের আদানপ্রদান হয়। এর ফলে বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয়। গবেষণাগারে পরীক্ষার সময় এই প্রযুক্তি সফল ভাবে কাজ করেছে। পরীক্ষায় রসুনের খোসা ব্যবহার করে দরজায় লাগানো একটি নিরাপত্তা সেন্সরও সফল ভাবে চালিয়ে দেখেছেন গবেষকরা।
রসুনের খোসা ও প্লাস্টিকের মেলবন্ধনে তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ,এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য গুঁড়ো করা রসুনের খোসাকে পজিটিভ স্তর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, একটি প্লাস্টিকের শিটকে নেগেটিভ স্তর হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত ভাষায় এই ব্যবস্থাকে বলা হয় ট্রাইবোইলেকট্রিক ন্যানোজেনারেটর। এই দুটি স্তর বা পৃষ্ঠের মধ্যে ঘর্ষণ হলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ছোটখাটো বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো সম্ভব।
পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী, পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, রসুনের খোসার একটি স্তর থেকে প্রায় ২১০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক বিভব তৈরি হতে পারে। সেখানে দুটি স্তর ব্যবহার করলে এই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৪০০ ভোল্ট পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তবে, এখানে উৎপন্ন বিদ্যুৎপ্রবাহের পরিমাণ অত্যন্ত কম। ফলে, ছোট ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্র চালানোর ক্ষেত্রে এটি বেশি কার্যকর হতে পারে। এই গবেষণার আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল, ছয় মাস ধরে সংরক্ষণ করে রাখার পরেও এবং টানা ২০০ বার ব্যবহার করার পরেও রসুনের খোসা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে রসুনের খোসার মতো জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে বাড়িতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সেন্সর দীর্ঘদিন চালানো যেতে পারে।
তবে, এই প্রযুক্তি এখনও গবেষণার পর্যায়ে রয়েছে। এটিকে বাস্তবে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করার উপযোগী করে তুলতে এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি। গবেষকরা এখন খতিয়ে দেখছেন, দুটি স্তরের বেশি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ কেন আর বাড়ছে না। ভবিষ্যতে রসুনের খোসার পাশাপাশি অন্যান্য জৈব বর্জ্য ব্যবহার করেও আরও বেশি শক্তি উৎপাদনের সম্ভাবনা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করেছেন গবেষকরা। এখন, দেখার এই গবেষণা কতটা কার্যকর হয়।
