গুরগাঁও: রাস্তায় গাড়ি চালানো নিয়ে বচসার জেরে এক মহিলা বাইকারকে ধাওয়া করে গাড়ি দিয়ে ধাক্কা মারার অভিযোগ উঠল গুরগ্রামে। রবিবার সকালে গোল্ফ কোর্স রোডে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। ঘটনায় আহত হয়েছেন বাইকার সিয়া।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তারা অবগত হয়েছে এবং ভিডিয়োর সাহায্যে দুর্ঘটনাস্থলের সঠিক অবস্থান যাচাই করা হচ্ছে। সেই অনুযায়ী কোন থানার এলাকায় ঘটনাটি পড়ছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তাঁদের কন্ট্রোল রুমে কোনও সতর্কবার্তা বা লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
সিয়ার দাবি, তিনি কয়েক জন বন্ধুর সঙ্গে আলাদা একটি বাইকে করে যাচ্ছিলেন। সেই সময় একটি সাদা রঙের সেডান গাড়ি তাঁর বাইকের অত্যন্ত কাছে চলে আসে। গাড়িচালক তাঁকে থামার ইশারা করতে থাকেন। পরিস্থিতি বুঝে সিয়া চালককে দূরত্ব বজায় রেখে গাড়ি চালানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, এরপরও গাড়িটি তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে।
সূত্র: https://x.com/amar_4inc/status/2099346991113544042
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা ভিডিয়োয় সিয়া দাবি করেছেন, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তিনি যতটা সম্ভব গাড়িটির থেকে দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেন। এমনকি তাঁর এক বন্ধু বাইক চালানোর সময় গাড়িটিকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে সেটি সিয়ার কাছে পৌঁছতে না পারে।
কিন্তু অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত গাড়িটি তাঁর বাইকে ধাক্কা মারে। বাইকে থাকা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, ধাক্কার পর সিয়া এবং তাঁর মোটরবাইক রাস্তায় ছিটকে পড়েন। কয়েক ফুট পর্যন্ত তাঁকে রাস্তায় ঘষটে যেতে দেখা যায়। অন্য দিকে তাঁর বাইকও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আলাদা দিকে ছিটকে যায়।
ঘটনার পর সিয়ার এক বন্ধু একটি ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়িটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিযোগ, গাড়িচালক গতি বাড়িয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। সিয়া পরে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বরও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন।
ঘটনার ভিডিয়ো এবং সিয়ার পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পরই গুরগ্রাম পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের নজরে আসে বিষয়টি। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
গুরগ্রাম পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক সন্দীপ তুরান জানিয়েছেন, ভিডিয়োর সাহায্যে দুর্ঘটনার সঠিক জায়গা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, পুলিশ সিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে লিখিত অভিযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে গাড়িচালকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে।
ঘটনার পর সিয়া লিখেছেন, গুরগ্রামের রাস্তায় তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করেননি। তাঁর অভিযোগ, কিছু মানুষ অন্যের জীবন বিপন্ন করার পরও পালিয়ে যাওয়ার ভয় পায় না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়ো ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যতা, গাড়িচালকের পরিচয় এবং ধাক্কার প্রকৃত কারণ পুলিশি তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। এখন পুলিশের নজর মূলত লিখিত অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভাইরাল হওয়া বাইকের ক্যামেরার ভিডিয়োর দিকে।