নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে চলন্ত বিমানের ককপিটে কুঠার হাতে সহকর্মীর ওপর হামলা চালালেন স্বয়ং কো-পাইলট। উদ্দেশ্য ছিল প্রধান চালককে ঘায়েল করে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমানটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেওয়া। বুধবার দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ ঘটনা গোটা বিশ্বের বিমান চলাচল ব্যবস্থার চরম গলদকে প্রকাশ্যে এনে দাঁড় করিয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিমানটিকে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরবে অবতরণ করানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অ্যাটর্নি জেনারেল নাম প্রকাশ না করলেও একে সোজাসুজি একটি ‘সন্ত্রাসবাদী পদক্ষেপ’ বলেই চিহ্নিত করেছেন।
তদন্তে নেমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির হাতে যে তথ্য এসেছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। জানা গেছে, অভিযুক্ত কো-পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি। তিনি ওমানের নাগরিক হলেও জন্ম আমিরশাহিতে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, চরমপন্থী মানসিকতার ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন ব্যক্তি এত সহজে ককপিটে ঢোকার ছাড়পত্র পেলেন।
সূত্রের খবর, উগ্র ভাবাদর্শের কারণে এর আগেই জাতীয় বিমান সংস্থা ওমান এয়ারের বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর মরক্কোর রয়্যাল এয়ার মারোকে প্রশিক্ষণের চেষ্টা করলেও চূড়ান্তভাবে তিনি নির্বাচিত হননি। অথচ মাত্র আট মাস আগে কোনও অদৃশ্য ফাঁকফোকর গলে ফ্লাইদুবাইয়ের মতো প্রথম সারির সংস্থায় চাকরি পেয়ে যান তিনি। হামাম ইংল্যান্ডের বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটি থেকে দূরশিক্ষার মাধ্যমে এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রি নিয়েছিলেন, যার সঙ্গে বিমান ওড়ানোর প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণের কোনও সম্পর্কই ছিল না।
ঘটনার ঠিক নয় ঘণ্টা পর তাঁর মুছে দেওয়া লিঙ্কডইন ও ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে আপলোড হওয়া কিছু সামগ্রী আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত দেয়। ২০২৩ সালের ওমান এয়ারের একটি বিমানের ককপিট থেকে তোলা পুরনো ভিডিওতে দুবাই বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা ইজরায়েলি বিমানের ওপর জুম করতে দেখা যায়। ভিডিওটির শেষে আল কায়দা নেতা আয়মান আল-জওয়াহিরি এবং সিআইএ কর্মকর্তাদের হত্যায় জড়িত আত্মঘাতী জঙ্গি বলভির ছবি জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া তাঁর পুরনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রায় তিন হাজার মুছে ফেলা পোস্ট ঘেঁটে তদন্তকারীরা দেখেছেন, তিনি তীব্র নারীবিদ্বেষী এবং উগ্র ধর্মীয় ভাবাবেগে আচ্ছন্ন ছিলেন।
সবচেয়ে বড় বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ইজরায়েলের অন্দরে। ওমানের সঙ্গে ইজরায়েলের কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তা সত্ত্বেও একজন ওমানি নাগরিককে তেল আবিবগামী বিমানের চালক হিসেবে কীভাবে ছাড়পত্র দেওয়া হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর। ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেট ও পরিবহন মন্ত্রক এখন একে অপরের দিকে দায় ঠেলতে ব্যস্ত। পরিবহন মন্ত্রকের মুখপাত্র সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের সুরক্ষা প্রোটোকলে বিদেশি বিমানের পাইলটদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাইয়ের কোনও নির্দিষ্ট নিয়মই নেই। এই প্রশাসনিক ফাঁকই মাঝআকাশে বড়সড় রক্তপাতের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল শতাধিক যাত্রীকে।
